ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে টি-টোয়েন্টি মিশন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেল না ব্যাট হাতে। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বোলিংয়ের সামনে ব্যাটিং ধসে ১৩১ রানেই অলআউট হয়েছে স্বাগতিকরা।
আজ নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলেও প্রত্যাশিত শুরু এনে দিতে পারেনি বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন হৃদয়। উদ্বোধনী জুটিতে কিছুটা ইতিবাচক বার্তা মিললেও ইনিংস যত এগিয়েছে, ততই ছন্দ হারিয়েছে টাইগাররা।
২৬ রানের জুটিতে শুরুটা মন্দ হয়নি বাংলাদেশের। তবে তানজিদ হাসান তামিম ৯ বলে ১০ রান করে বিদায় নেওয়ার পর ভাঙতে শুরু করে ইনিংসের ভিত। এরপর সাইফ হাসানও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৪ বলে ২০ রান করে স্পিনার ম্যাট রেনশোর শিকার হন তিনি।
অধিনায়ক হৃদয় ব্যাট হাতে নামার পর প্রথম দিকেই ছক্কা হাঁকিয়ে দর্শকদের উজ্জীবিত করেছিলেন। কিন্তু সেই ঝলক স্থায়ী হয়নি। অ্যাডাম জাম্পার গুগলিতে বোল্ড হয়ে ৮ রানেই থামতে হয় তাকে। একই বোলারের বলে আউট হন সৌম্য সরকারও, যিনি ১৮ বলে ১৭ রান করেন।
মাঝের সারিতে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ ছিল অন্য ব্যাটারদের সামনে। কিন্তু কেউই তা কাজে লাগাতে পারেননি। ইমন আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন, আর শামীম পাটোয়ারীর উইকেট বাংলাদেশকে আরও চাপে ফেলে। ৭৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় অস্ট্রেলিয়ার হাতে।
অভিষিক্ত সাকলাইন কিছুটা প্রতিরোধের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। একটি ছক্কাসহ ১০ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। রিশাদ হোসেনও দ্রুত বিদায় নিলে ১০০ রান পূর্ণ হওয়ার আগেই অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
একসময় ১৫০ কিংবা তারও বেশি রানের সম্ভাবনা জাগলেও নিয়মিত উইকেট পতনে তা অধরাই থেকে যায়। শেষদিকে মেহেদী কিছুটা লড়াই করেন। ২২ বলে ২৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের স্কোর ১৩১ পর্যন্ত নিয়ে যান তিনি। শেষ উইকেট জুটির ২৩ রান বাংলাদেশকে সামান্য স্বস্তি দিলেও এই সংগ্রহ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াইটা যে কঠিন হতে যাচ্ছে, তা বলাই যায়।










Discussion about this post