ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্মৃতি তখনো টাটকা। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই টি-টোয়েন্টি অধ্যায় শুরু করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচেই বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। আজ ব্যাটিং ব্যর্থতায় ছোট সংগ্রহ গড়ে পরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজ শুরু করেছে স্বাগতিকরা।
চোটের কারণে নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব পান তাওহীদ হৃদয়। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচেই টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুরুটাও খুব একটা খারাপ হয়নি। তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসানের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ২৬ রান। তবে সেই শুরু বড় সংগ্রহের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারেনি।
তানজিদ ৯ বলে ১০ রান করে ফেরার পর এক ওভার ব্যবধানে সাজঘরের পথ ধরেন সাইফও। ১৪ বলে ২০ রান করা এই ওপেনারের বিদায়ের পরও পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৫২। কিন্তু এরপরই যেন থমকে যায় ইনিংস। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল।
তিন নম্বরে নেমে সৌম্য সরকার করেন ১৭ রান। অধিনায়ক হৃদয়ের ইনিংস থামে ৮ রানে। পারভেজ হোসেন ইমন, শামীম হোসেন পাটোয়ারী কিংবা অভিষিক্ত আবদুল গাফফার সাকলাইন—কেউই দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস বড় করতে পারেননি। ফলে একসময় ১৫০ রানের সম্ভাবনা দেখা দিলেও তা দ্রুত মিলিয়ে যায়।
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন শেখ মেহেদী হাসান। ইনিংসের শেষ দিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দলের রান কিছুটা বাড়িয়ে দেন তিনি। রিভার্স সুইপ ও সুইপে দারুণ কয়েকটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ২২ বলে অপরাজিত ২৯ রান করেন মেহেদী। তবে তার চেষ্টাও বাংলাদেশকে ১৩১ রানের বেশি নিতে পারেনি। ১৯ ওভারে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জোয়েল ডেভিস ও অ্যাডাম জাম্পা নেন তিনটি করে উইকেট। দুটি উইকেট শিকার করেন ম্যাট রেনশ।
১৩২ রানের লক্ষ্য খুব বড় ছিল না। তবে শুরুতে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। ১৩ রানের মধ্যে জশ ইংলিসকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। পরে মুস্তাফিজুর রহমানের শিকার হন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মিচেল মার্শ। ৩৮ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে সফরকারীরা।
কিন্তু সেই চাপ বেশিক্ষণ টেকেনি। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি করা কুপার কনোলি টি-টোয়েন্টিতেও ব্যাট হাতে দাপট দেখান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। মাত্র ২৭ বলে ৪৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে জয়ের ভিত গড়ে দেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
অভিষিক্ত সাকলাইন কনোলির উইকেট তুলে কিছুটা আশা ফিরিয়েছিলেন। এরপর শেখ মেহেদী টিম ডেভিডকে এবং রিশাদ হোসেন নিখিল চৌধুরীকে ফিরিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া।
শেষ দিকে ম্যাট রেনশ ও জোয়েল ডেভিস আর কোনো বিপদ হতে দেননি। ১০ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।
বাংলাদেশের হয়ে দুটি উইকেট নেন অভিষিক্ত আবদুল গাফফার সাকলাইন। শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদী হাসান ও রিশাদ হোসেন নেন একটি করে উইকেট। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ব্যর্থতার দায়ই বড় হয়ে দেখা দিল বাংলাদেশের জন্য।









Discussion about this post