বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে শক্তিশালী ফরম্যাট হিসেবে দীর্ঘদিন পরিচিত ছিল ওয়ানডে। তবে ২০১৯ বিশ্বকাপের পর সেই আধিপত্যে ধীরে ধীরে ভাটা পড়ে। একসময় যে দল নিয়মিতভাবে বড় দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত, তাদেরই জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার মতো দলের বিপক্ষে সিরিজ হারতে হয়েছে।
সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতিও সেই ধস পুরোপুরি ঠেকাতে পারেনি।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দল আরও বড় পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। দলের বাইরে চলে যান সাকিব, আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তামিমও। ফলে দীর্ঘদিন ধরে দলের ব্যাটিংয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে থাকা চার অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে হারিয়ে নতুন করে নিজেদের গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জে পড়ে বাংলাদেশ।
এই পরিবর্তনের সময়ে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের ওপর আস্থা রাখতে শুরু করে টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই তালিকায় নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়ের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। তবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের বিচারে হৃদয় নিজেকে অন্যদের চেয়ে কিছুটা এগিয়েই রেখেছেন।
ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম মাঝে মাঝে ঝলক দেখালেও ধারাবাহিক হতে পারেননি। লিটন দাস ও সৌম্য সরকারও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন। কিন্তু দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার মধ্যেও মিডল অর্ডারে নিয়মিত রান করে গেছেন তাওহীদ হৃদয়। চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা এবং ইনিংস গড়ে তোলার দক্ষতা তাকে দলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত করেছে।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ইতোমধ্যে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন হৃদয়। ৪৮ ইনিংসে তার সংগ্রহ ১ হাজার ৬১৩ রান, গড় ৩৯.৩৪। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে এক হাজার বা তার বেশি রান করা ব্যাটারদের মধ্যে এটিই এখন সর্বোচ্চ গড়। এ ক্ষেত্রে তিনি পেছনে ফেলেছেন সাকিব আল হাসানের ৩৭.২৯ গড়কেও।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজেও ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। তিন ম্যাচে যথাক্রমে ৩১, অপরাজিত ৪০ ও ৮৩ রান করে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
এই ধারাবাহিকতায় ওয়ানডেতে টানা সাত ইনিংসে ৩০-এর বেশি রান করার কৃতিত্বও গড়েছেন তিনি। চলতি বছরও ব্যাট হাতে রয়েছেন অসাধারণ ফর্মে। আট ইনিংসে ৮৭ গড়ে ৩৪৮ রান করে বিশ্ব ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছেন।









Discussion about this post