অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর এবার হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের আগে স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়েছে অলরাউন্ডার শেখ মেহেদি হাসানকে। মূলত অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডের জন্য ঘোষিত দলে একমাত্র নতুন সংযোজন শেখ মেহেদি। বিসিবি জানিয়েছে, মিরাজ বর্তমানে সুস্থ থাকলেও ম্যাচে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে রোববার সকালে আরও এক দফা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করা হবে। যদি মিরাজ শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারেন, তাহলে একাদশে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের অধিনায়ক শেখ মেহেদির সামনে। সদ্য শেষ লিগে লিজেন্ডসদের হয়ে দারুণ খেলেছেন তিনি।
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে চোট পান মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার পেসার ন্যাথান এলিসের একটি বাউন্সার তার হেলমেটে আঘাত হানে। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি খেলা চালিয়ে গেলেও ম্যাচ শেষে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং দুই দফা স্ক্যানের পর চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেন। বর্তমানে তিনি দলের সঙ্গেই রয়েছেন, তবে মাঠে নামার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত কি না, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।
প্রথম দুই ওয়ানডেতে মিরাজের সঙ্গে স্পিন বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম। স্কোয়াডে আরও রয়েছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। মিরাজ না খেললে স্পিন আক্রমণে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বাংলাদেশের।
বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ১১টি ওয়ানডে খেলেছেন শেখ মেহেদি। ডানহাতি এই অফস্পিনার ৪.৯৫ ইকোনমিতে ১৪টি উইকেট শিকার করেছেন। ব্যাট হাতে উল্লেখযোগ্য কোনো ইনিংস না খেললেও নিচের দিকে কার্যকর অবদান রাখার সামর্থ্য রয়েছে তার। ওয়ানডে ক্রিকেটে তার সর্বশেষ উপস্থিতিও ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে শেষবার জাতীয় দলের জার্সিতে এই সংস্করণে খেলেছিলেন তিনি।
ইতোমধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। এখন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার তৃতীয় ওয়ানডেতে জয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ টাইগারদের সামনে।
তৃতীয় ওয়ানডের জন্য বাংলাদেশ দল
মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন (সহ–অধিনায়ক), তাওহিদ হৃদয়, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম, নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান।










Discussion about this post