বাংলাদেশ ক্রিকেটের বদলে যাওয়া বাস্তবতা নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করেছেন জাতীয় দলের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার মতে, একসময় বাংলাদেশের একটি-দুটি জয়ই ছিল বড় উৎসবের উপলক্ষ, অথচ এখন জাতীয় দল নিয়মিত সিরিজ জিতে নতুন উচ্চতা তৈরি করছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ধারাবাহিক সাফল্য বাংলাদেশের ক্রিকেটের পরিবর্তনের বড় প্রমাণ বলেই মনে করেন তিনি।
২০২৪ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়ে টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। এরপর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ২-১ ব্যবধানে জয় পায় টাইগাররা। সর্বশেষ দেশের মাটিতেও টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ।
পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাইফউদ্দিন বলেন, ‘যখন বাংলাদেশের মাঝে মধ্যে একটা দুটা ম্যাচ জিততো ২০০৩-৪ সালের দিকে, তখন ঈদের মতো একটা আনন্দ উপভোগ করতাম। এখন তো মাশাআল্লাহ ওইটা থেকে আমাদের এখন নিয়মিত আমরা সিরিজ জিতছি।’
বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জেতা একসময় শুধুই স্বপ্ন ছিল। তবে বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটাররা সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন, ‘একটা সময় আমরা পাকিস্তানের সাথে টেস্ট সিরিজ বা ওয়ানডে সিরিজ বা টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতব, এটা আমাদের স্বপ্ন ছিল। আমাদের খেলোয়াড়রা এই পরিবর্তনটা এনেছে এবং বাস্তবে সেটা প্রমাণ করেছে।’
সম্প্রতি সিলেট টেস্ট চলাকালে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন এই অলরাউন্ডার। তখন তিনি ডিপিএলে মোহামেডানের হয়ে খেলছিলেন, তবে মন পড়ে ছিল জাতীয় দলের ম্যাচেই। ম্যাচের অবস্থা জানতে বারবার খোঁজ নিচ্ছিলেন বলেও জানান তিনি।
সাইফউদ্দিন বলেন, ‘আমি ওই যে স্কয়ার লেগে ফিল্ডিং করছিলাম। তো অগ্রণী ব্যাংকের কোচ হেড কোচ রাজিন ভাইকে বারবার জিজ্ঞেস করতেছিলাম যে, ‘ভাই, কি অবস্থা (সিলেট টেস্টের)? উইকেট পড়তেছে কিনা?’ একটা সময় রিজওয়ান অনেক ভালো ব্যাটিং করতেছিল। স্বাভাবিক, তারপর তো মন পড়েই থাকে।’
তিনি আরও বলেন, দেশের সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের মতো ক্রিকেটারদের মাঝেও টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে একই ধরনের উত্তেজনা কাজ করে। সুযোগ পেলেই সবাই স্কোর দেখেন কিংবা টিভিতে খেলা অনুসরণ করেন।
সাইফউদ্দিনের কথায়, ‘আমরা যারা ক্রিকেট প্রেমী সবাই তো একটু পর পর টেস্ট ক্রিকেটটা কেউ টিভিতে দেখি, না হলে একটু পর পর স্কোর দেখি একটা উইকেট পড়ছে কিনা। তো এই জিনিসটা আমাদের সবার মধ্যে থাকে।’
সবশেষে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হওয়ার মুহূর্তটিকে ‘ভিন্নরকম অনুভূতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাইফউদ্দিন বলেন, ‘আর অবশ্যই যখন শুনলাম যে আমরা জিতেছি, তো এটা অন্যরকম একটা অনুভূতি, প্রকাশ করার মতো না।’









Discussion about this post