চেহারায় খুব বেশি আগ্রাসনের ছাপ নেই, শরীরী ভাষাতেও দেখা যায় না প্রচলিত ফাস্ট বোলারদের মতো তেজী ভাব। শান্ত স্বভাব, নরম কণ্ঠ আর ঠোঁটে মৃদু হাসি নিয়েই চলেন নাহিদ রানা। কিন্তু মাঠে বল হাতে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চরিত্র। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে নিজের গতি ও আগ্রাসী বোলিংয়ে বারবার সেটিই প্রমাণ করছেন বাংলাদেশের এই তরুণ পেসার।
মিরপুর টেস্ট থেকেই শুরু হয়েছিল সেই আগুনে লড়াইয়ের গল্প। ব্যাট করতে নামার পর নাহিদ রানাকে লক্ষ্য করে বাউন্সার ছুড়েছিলেন পাকিস্তানের পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। একজন ফাস্ট বোলারের কাছে এমন চ্যালেঞ্জ আলাদা প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়। পরে সেই ম্যাচের শেষ দিনে বল হাতে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন নাহিদ। তার বাউন্সারেই আউট হন আফ্রিদি, আর নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তখন মজার ছলে কিন্তু অর্থবহ এক মন্তব্য করেছিলেন। শান্ত বলেছিলেন, ‘রানাকে বাউন্সার মারলে আবার বাউন্সার খেতেও হবে। আমি হলে রানাকে বাউন্সার মারতাম না! কারণ, আমার শখ নেই অত জোরে বাউন্সার খেলার।’
সিলেট টেস্টেও দারুণ বোলিং করে পাকিস্তানকে চাপে রেখেছেন নাহিদ। প্রথম ইনিংসে তিন উইকেট নেওয়ার পর আজ সংবাদ সম্মেলনে আবারও উঠে আসে সেই বাউন্সারের প্রসঙ্গ। আর সেখানেই নিজের মানসিকতার পরিষ্কার বার্তা দেন এই তরুণ পেসার।
নাহিদ বলেন, ‘বাউন্সার দিতে ভাববে কি না জানি না, তবে এতটুক বলতে পারি, আমাকে কেউ বাউন্সার মারলে আমি তাকে ছেড়ে কথা বলব না… এটা বলতে পারি।’
এরপর আরও স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি। বাবর আজমকে আউট করার পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন নাহিদ। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ বোলারদের উদ্দেশেও দেন কড়া বার্তা। তিনি বলেন, ‘বাবর আজমকে আউট করার বলটা ইচ্ছে করেই স্লোলোর দিয়েছিলাম। আমাকে কেউ বাউন্স মারলে সে যে বোলারই হোক না কেন আমি তাকে ছেড়ে কথা বলবো না।’
চলমান সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম বড় শক্তি হয়ে উঠেছেন নাহিদ। প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসেও তুলে নিয়েছেন তিন উইকেট। তবে ব্যক্তিগত প্রশংসা বা আলোচনায় খুব বেশি মন দেন না তিনি। নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে রানা বলেন, ‘চারপাশে আমাকে নিয়ে কে কী বললো দেখি না। টিম যা চায়, তার কতটুকু আমি দিতে পারি সেটাই লক্ষ্য থাকে।’
যদিও নিজের পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে এই ম্যাচে লিটন দাসের সেঞ্চুরিকে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছেন নাহিদ। প্রথম দিনে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশকে ২৭৮ রানে নিয়ে যান লিটন তার দুর্দান্ত শতকে।
নাহিদ বলেন, ‘আমি বলব আমাদের টার্নিং পয়েন্ট ছিল লিটন দার ব্যাটিং। শেষের দিকে তাইজুল ভাই, তাসকিন ভাই, শরিফুল, তাদের শেষের দিকের ব্যাটিংও ভালো ছিল। কারণ, বোলিং তো আমরা ভালো করছি, কিন্তু যদি লিটন দার ব্যাটিংয়ে শতরান না হতো, আমরা ব্যাকফুটে থাকতাম। আমি মনে করি, তার সেঞ্চুরিই টার্নিং পয়েন্ট ছিল।’
দলের সিনিয়র পেসারদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নাহিদ। বিশেষ করে তাসকিন আহমেদের কাছ থেকে নিয়মিত সমর্থন ও পরামর্শ পান বলেও জানিয়েছেন তিনি। নাহিদ বলেন, ‘শুরুতে তাসকিন ভাই আর শরিফুল ভাই বেশ ভালো বোলিং করেছে। তাসকিন ভাই আমাকে সবসময় ছোট ভাইয়ের মত স্নেহ করে। আমাকে সবসময় পরামর্শ দেন।’










Discussion about this post