ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে জমে উঠেছে শিরোপার লড়াই। শীর্ষস্থান দখলের ম্যাচে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার এক নম্বরে উঠে এসেছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ মুহূর্তের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে জয় নিশ্চিত করে প্রাইম ব্যাংক। একই দিনে বিভিন্ন ভেন্যুতে দেখা গেছে ব্যাটারদের আধিপত্য, পাঁচটি সেঞ্চুরি এবং কয়েকটি দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স।
আজকের দিনের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩০৩ রান তোলে মোহামেডান। ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। শতকের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ৯৯ রানেই থামতে হয় তাকে। ইনিংসজুড়ে দারুণ নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করেন তিনি এবং প্রাইম ব্যাংকের বোলারদের ওপর চাপ ধরে রাখেন। তার ইনিংসেই বড় সংগ্রহের ভিত পায় মোহামেডান।
৩০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আত্মবিশ্বাসী শুরু করে প্রাইম ব্যাংক। ওপেনার শাহাদাত হোসেন ছিলেন দলের মূল ভরসা। ধৈর্য ও ইতিবাচক মানসিকতায় খেলে ১২৩ বলে ১১৮ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাটে ছিল পরিপক্বতার ছাপ। নিয়মিত বিরতিতে বাউন্ডারি তুলে নিয়ে রান তাড়ার কাজ সহজ করে দেন এই ওপেনার।
তবে ম্যাচের শেষদিকে নাটকীয়তা তৈরি করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৪৯তম ওভারের প্রথম দুই বলেই দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন তিনি। সেই সময় মনে হচ্ছিল ম্যাচটি হয়তো মোহামেডানের দিকেই ঝুঁকে যাচ্ছে। কিন্তু চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নেন শামীম হোসেন।
জাতীয় দলের এই বাঁহাতি ব্যাটার মাত্র ২১ বলে অপরাজিত ৩৭ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। বিশেষ করে একই ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে টানা দুই ছক্কা হাঁকিয়ে সব হিসাব বদলে দেন তিনি। ৫ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় প্রাইম ব্যাংক। এই জয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো জয় পেল দলটি, আর প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল মোহামেডান।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আরেক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। ২১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ১৪৯ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে কঠিন অবস্থায় পড়ে যায় দলটি।
সেখান থেকে সাব্বির রহমান ও মাহফুজুর রাব্বির জুটি আবাহনীকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। সাব্বির ৫৪ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেন। অন্যদিকে মাহফুজুর রাব্বি করেন ২২ রান। এর আগে অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন ৫৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। জাকের আলীর সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ জুটি আবাহনীর রান তাড়ার ভিত গড়ে দেয়।
বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন আমিনুল ইসলাম। জাতীয় দলের সাবেক এই লেগ স্পিনার ব্যাট হাতে ৮১ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। তবে দলকে জেতাতে পারেননি তিনি। আবাহনীর পেসার রোহানাত দৌল্লাহ ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
পূর্বাচলের ক্রিকেটার্স একাডেমিতে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন ঢাকা লেপার্ডসের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। মাত্র ৮৬ বলে ১১২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৮টি ছক্কা। মিঠুনের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৭ উইকেটে ৩৫১ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় লেপার্ডস। পরে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ২৩১ রানে অলআউট করে সহজ জয় তুলে নেয় তারা।
অন্যদিকে পিকেএসপিতে নাটকীয় জয় পেয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। ২৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮৯ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে দলটি। কিন্তু অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও শুভাগত হোম দুর্দান্ত জুটি গড়ে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন।
শুভাগত ৭৮ রান করে আউট হলেও নাসির শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। ৭৯ বলে ৭৮ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। তাদের ১৩৯ রানের জুটি ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।
বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ বড় জয় পেয়েছে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে। ওপেনার আশিকুর রহমান শিবলি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন। তার ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেটে ৩৫৪ রান তোলে দলটি। পরে প্রতিপক্ষকে মাত্র ১০৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২০৫ রানের বিশাল জয় তুলে নেয় রূপগঞ্জ। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ ৪ উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
দিনের আরেক ম্যাচে সিটি ক্লাব জয় পেয়েছে রূপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষে। যদিও রূপগঞ্জের হয়ে মাহমুদুল হাসান লিমন ১০৬ রানের সেঞ্চুরি করেন, তবে মন্থর ব্যাটিংয়ের কারণে দল বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি।
সিটি ক্লাবের পেসার আবদুল গাফফার সাকলাইন ছিলেন ম্যাচের নায়ক। মাত্র ৩৭ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। পরে ওপেনার সাদিকুর রহমানের অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংসে সহজেই জয় তুলে নেয় সিটি ক্লাব। এনামুল হক এনামও ৯০ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন।









Discussion about this post