অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। নানা আলোচনা, অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছে বিসিবি।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন। একই দিনে ভোটগ্রহণ এবং ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের নতুন নেতৃত্ব।
আজ শনিবার প্রকাশিত তফসিলে নির্বাচনী কার্যক্রমের বিস্তারিত সূচিও জানানো হয়েছে। আগামী ২০ ও ২১ মে মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা এই দুই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে বিসিবি কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ২৩ মে প্রকাশ করা হবে বৈধ মনোনয়নপত্রের তালিকা।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২৪ মে আপত্তি গ্রহণ ও শুনানির কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। আর ২৫ মে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা। ওই দিনই দুপুরে প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা। মে মাসের শেষ সপ্তাহেই পরিষ্কার হয়ে যাবে বিসিবির নির্বাচনী লড়াইয়ে কারা থাকছেন।
এবারও আগের নিয়মেই তিনটি ক্যাটাগরিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জেলা ও বিভাগভিত্তিক ক্যাটাগরি-১ থেকে নির্বাচিত হবেন ১০ জন পরিচালক। ক্লাব ক্যাটাগরি অর্থাৎ ক্যাটাগরি-২ থেকে আসবেন ১২ জন প্রতিনিধি। আর সাবেক ক্রিকেটারদের ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হবেন একজন পরিচালক। সব মিলিয়ে ২৩ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হবে এই নির্বাচনের মাধ্যমে।
নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে পোস্টাল ও ই-ব্যালট ব্যবস্থা। ২৫ মে এসব ব্যালটের জন্য আবেদন করতে হবে। পরে ১ জুন থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ই-ব্যালট ও পোস্টাল ভোট পাঠানো হবে। সেগুলো ৭ জুন দুপুর ১টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাতে হবে। একই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিসিবির বোর্ড রুমে চলবে সরাসরি ভোটগ্রহণ। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় ঘোষণা করা হবে বহুল আলোচিত নির্বাচনের ফলাফল।
এই নির্বাচনকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহের অন্যতম কারণ বর্তমান প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট। মাত্র দুই মাস আগে দায়িত্ব পাওয়া তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। ক্রিকেট অঙ্গনের অনেকেই এটিকে স্থায়ী কাঠামোয় ফেরার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এর আগে গত ১৩ মে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এহসানুল করিম। কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ইসরাইল হাওলাদার এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উপসচিব ও পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) বি.এম এহসানুল মামুন। বিসিবি জানিয়েছে, প্রচলিত নিয়ম ও গঠনতন্ত্র অনুসারেই নির্বাচন কমিশন পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এই নির্বাচন বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে আরেকটি কারণে। গত বছরের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি হয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। কিন্তু পরে নির্বাচন ঘিরে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে জাতীয় দলের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পূর্বের বোর্ড ভেঙে দেয়। এরপরই ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে আছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।










Discussion about this post