মিরপুর টেস্টের পঞ্চম দিনের সকালে আজ দ্রুত রান তোলার লক্ষ্য নিয়েই ব্যাটিং শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার মুশফিকুর রহিম বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। পাকিস্তানি পেসার হাসান আলির বলে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে মিডঅফে ক্যাচ তুলে দিয়ে ২২ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর লিটন দাসও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ১১ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার দ্বিতীয় ইনিংসেও শতকের পথে এগোচ্ছিলেন। তবে নোমান আলীর বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন তিনি। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ১৫০ বলে ৭ চার মেরে ৮৭ রান করে ফেরেন শান্ত। ফলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এক টেস্টের দুই ইনিংসে তিনবার সেঞ্চুরি করার বিরল রেকর্ডও হাতছাড়া হয় তার।
শান্তর বিদায়ের পর দ্রুত ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। মেহেদী হাসান মিরাজ ২৭ বলে ২৪ রান করলেও এরপর আর বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি দল। লাঞ্চের আগে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি ধাঁচের ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। এতে কিছু রান এলেও উইকেট হারানোর মিছিলও চলতে থাকে। শেষদিকে তাসকিন আহমেদ ৫ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ১১ রান করেন। হাসান আলির শর্ট বলে বড় শট খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন তিনি। অপরপ্রান্তে ২ বলে ৪ রান করে অপরাজিত থাকেন ইবাদত হোসেন।
তাসকিনের আউটের পরই ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক শান্ত। ৭০.৩ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে স্বাগতিকদের লিড দাঁড়ায় ২৬৭ রান। ফলে জয়ের জন্য পাকিস্তানকে করতে হবে ২৬৮ রান। লক্ষ্য তাড়া করার জন্য পাকিস্তান পাবে প্রায় দুই সেশনের কিছু বেশি সময়, অর্থাৎ ৭৬ ওভার।
বাংলাদেশের এই ঘোষণাকে অনেকে সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন। কারণ ড্রয়ের নিরাপদ পথে না হেঁটে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতেই দ্রুত ইনিংস ঘোষণা করেছে দল। এর আগে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৫২ রান, তখন লিড ছিল ১৭৯ রানের।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ করেছিল ৪১৩ রান। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৮৬ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৭ রান করেন শান্ত। পাকিস্তানের হয়ে হাসান আলি ও নোমান আলি নেন দুটি করে উইকেট।










Discussion about this post