ড্রয়ের নিরাপদ পথ না বেছে শেষ দিনে জয়ের জন্যই সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে বাংলাদেশ। দ্রুত রান তুলে সময় হাতে রেখে ইনিংস ঘোষণা, এরপর শুরুতেই উইকেট-সব মিলিয়ে মিরপুর টেস্টে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা। তবে সহজে হার মানার ইঙ্গিত দিচ্ছে না পাকিস্তানও। ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেলেও ম্যাচে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে সফরকারীরা।
তবে শান মাসুদের দলের সামনে আজ বড় চ্যালেঞ্জ ইতিহাস। শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এর আগে কোনো দলই চতুর্থ ইনিংসে ২০৯ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি। ২০১০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই কীর্তি গড়েছিল ইংল্যান্ড। এবার সেই রেকর্ড ভাঙতে পাকিস্তানকে করতে হবে আরও বড় কিছু।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৩ রান উঠতেই ফেরান ইমাম উল হককে। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে। ২ রানেই থামে ইমামের ইনিংস। শুরুটা দারুণ হলেও পরে আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালান পাকিস্তানের হয়ে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১১২ রান। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ১৫৬ রান। হাতে আছে ৪৭ ওভার। ফজল ৬৪ ও সালমান আগা ২০ রানে অপরাজিত আছেন।
এর আগে পঞ্চম দিনের সকালে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। দ্রুত রান তুলতে গিয়ে অবশ্য উইকেটও হারায় নিয়মিত বিরতিতে। মুশফিকুর রহিম ২২ রান করে হাসান আলির বলে মিডঅফে ক্যাচ দেন। এরপর লিটন দাসও আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন। তার ব্যাট থেকে আসে ১১ রান।
একপ্রান্তে অনড় ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার দ্বিতীয় ইনিংসেও শতকের আশা জাগিয়েছিলেন। পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে দারুণ ধৈর্যের পরিচয় দেন তিনি। তবে ৮৭ রানে গিয়ে থামে তার ইনিংস। নোমান আলীর বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন শান্ত। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। ১৫০ বলের ইনিংসে তিনি মারেন ৭টি চার। ফলে একই টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়া হয়নি বাংলাদেশ অধিনায়কের।
শান্তর বিদায়ের পর দ্রুত গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪ রান করেন। শেষদিকে তাসকিন আহমেদ ৫ বলে ১১ রান করে কিছুটা গতি আনেন। এরপর ৯ উইকেটে ২৪০ রানেই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪১৩ রান। জবাবে পাকিস্তান করে ৩৮৬। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে হাসান আলি ও নোমান আলি নেন দুটি করে উইকেট। এখন শেষ দিনের বাকি সময়জুড়ে চোখ থাকবে মিরপুরে-বাংলাদেশ কি সাহসী সিদ্ধান্তের পুরস্কার পাবে, নাকি রেকর্ড গড়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেবে পাকিস্তান।









Discussion about this post