বৃষ্টির কারণে ম্যাচ গড়িয়েছিল রিজার্ভ ডেতে, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি সেটি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) আজ নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে দুই ঐতিহ্যবাহী দল-মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং আবাহনী লিমিটেড। একদিকে মোহাম্মদ নাঈমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর বিধ্বংসী বোলিংয়ে বড় জয় পেয়েছে মোহামেডান, অন্যদিকে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে আবাহনীও।
ইউল্যাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আগে ব্যাট করতে নেমে মোহামেডান তোলে ৬ উইকেটে ৩৪৫ রানের বিশাল স্কোর। ইনিংসের নায়ক ছিলেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। ১৩৬ বলে ৫ চার ও ১২ ছক্কায় দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন তিনি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটি তার ১১তম শতক। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের চাপে রাখেন তিনি।
৩৪৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে রূপগঞ্জ টাইগার্স। আগের দিন তারা ১৬.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ৫৩ রান তুলতেই বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। রিজার্ভ ডেতে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ৩৪.৫ ওভারে মাত্র ১৪৫ রানেই অলআউট হয় রূপগঞ্জ। সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন সজীব মিয়া।
বল হাতে মোহামেডানের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। তাকে দারুণ সহায়তা দেন রিশাদ হোসেন, যিনি নেন ৩ উইকেট। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েই সহজ জয় নিশ্চিত হয় মোহামেডানের।
অন্যদিকে পিকেএসপিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় আবাহনী। ৬ উইকেটে ২৮৩ রান তোলে তারা। ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন তিনজন। মাহিদুল ইসলাম করেন ৮৩ রান (১১৩ বলে), এস এম মেহেরব হাসান করেন ৭৭ রান (৭৬ বলে) এবং শেষ দিকে ঝড় তোলেন মোসাদ্দেক হোসেন-মাত্র ৪০ বলে অপরাজিত ৬২ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু করেছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ১২ ওভারে ১ উইকেটে ৪৯ রান তুলেছিল তারা। কিন্তু বৃষ্টির পর রিজার্ভ ডেতে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৩৫.৫ ওভারে ১১৭ রানেই অলআউট হয় ব্রাদার্স। ওপেনার জাহিদুজ্জামান ৫৮ বলে ৪০ রান করেন।
আবাহনীর বোলিং আক্রমণ ছিল সমানভাবে কার্যকর। খালেদ আহমেদ, রহানতউল্লাহ, রাকিবুল হাসান, সৌম্য সরকার এবং মাহফুজুর রহমান-প্রত্যেকেই নেন ২টি করে উইকেট। তাদের সম্মিলিত বোলিং আক্রমণেই বড় জয় নিশ্চিত করে আবাহনী। বৃষ্টিভেজা রিজার্ভ ডেতে শেষ পর্যন্ত ব্যাট-বলের লড়াইয়ে স্পষ্ট ব্যবধানই গড়ে দেয় ফলাফল।



