চতুর্থ দিনের সকালটা ছিল হতাশার, কিন্তু আজ দিনের শেষটা বাংলাদেশের জন্য আশাবাদের। শুরুতেই দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ায় চাপে পড়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে সেই ধাক্কা সামলে দারুণ এক জুটিতে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। তাদের ব্যাটে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। যদিও বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতা দিনের খেলাকে বারবার ব্যাহত করেছে, তবু শেষ দিনের আগে ম্যাচে এগিয়ে আছে টাইগাররাই।
দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৫২ রান। প্রথম ইনিংসে পাওয়া ২৭ রানের লিডসহ মোট ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৭৯ রান। হাতে আছে আরও সাত উইকেট। ৫৮ রানে অপরাজিত আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, তার সঙ্গে ক্রিজে আছেন মুশফিকুর রহিম।
দিনের শুরুতে দ্রুতই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। আব্বাস আফ্রিদির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর হাসান আলির বলে স্লিপে ক্যাচ দেন সাদমান ইসলাম। মাত্র ২৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে দায়িত্ব নেন শান্ত ও মুমিনুল। শুরুতে ধীরগতিতে খেললেও সময়ের সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন দুজনই। পাকিস্তানের বোলারদের ক্লান্ত করে তারা গড়েন ১০৫ রানের জুটি। এই জুটিই বাংলাদেশের ইনিংসকে স্থিতি দেয় এবং ম্যাচে এগিয়ে রাখে।
দিনটি বিশেষ হয়ে আছে মুমিনুল হকের জন্যও। ফিফটি পূর্ণ করার পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটে ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। বাংলাদেশের হয়ে এর আগে কেবল মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল এই কীর্তি গড়েছিলেন। ৫৬ রান করে ফেরার আগে টানা পঞ্চম ফিফটির দেখা পান তিনি।
অন্যদিকে শান্ত খেলেছেন অধিনায়কের মতোই পরিণত ইনিংস। শুরু থেকে ধৈর্য ধরে খেলে দিনের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছেন তিনি। শেষ দিনে বাংলাদেশের আশা এখন তার ব্যাটের দিকেই।
বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার কারণে পুরো দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ৪৮.৪ ওভার। তবু এই সীমিত সময়েই বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে। প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করার পর পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ৩৮৬ রানে। এখন শেষ দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে লিড আরও বাড়িয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলা।
পঞ্চম দিনের খেলা শুরু হবে সকাল পৌনে ১০টায়, নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে।









Discussion about this post