ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আজ ছিল ব্যাটারদের উৎসব। আকাশে বারবার বৃষ্টি এলেও মাঠে থামেনি রানের স্রোত। কখনও ছক্কার ঝড়, কখনও নাটকীয় ডিএলএস সমীকরণ-সব মিলিয়ে দিনজুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। আর সেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মোহামেডানের ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম।
রূপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষে ইউল্যাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন নাঈম। বোলারদের ওপর একের পর এক আঘাত হেনে তিনি খেলেন ১৪৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ১৩৬ বলের ইনিংসে ১২টি ছক্কা ছিল সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। চার মেরেছেন মাত্র পাঁচটি, অর্থাৎ বাউন্ডারির বেশির ভাগই এসেছে আকাশপথে। তার ব্যাটিংয়ে ছিল আধিপত্যের স্পষ্ট ছাপ। নাঈমের এই ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে ৬ উইকেটে ৩৪৫ রান তোলে মোহামেডান।
কিন্তু বড় লক্ষ্য তাড়ার লড়াই জমে ওঠার আগেই হাজির হয় বৃষ্টি। রূপগঞ্জ টাইগার্স ১৬.৫ ওভারে ৫৩ রান তুলতেই খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে আর মাঠে ফেরা সম্ভব হয়নি। ফলে ম্যাচটি রিজার্ভ ডেতে গড়িয়েছে।
দিনের আরেক আলোচিত ইনিংসটি এসেছে শাহাদত হোসেন সবুজের ব্যাট থেকে। টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যর্থতার পর অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে যেন নিজের পুরোনো রূপ ফিরে পান তিনি। ১২১ বলে ১৩২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ১৭টি চার ও একটি ছক্কা মারেন এই ব্যাটার। শাহরিয়ার সাকিবের সঙ্গে গড়ে তোলেন ১৮৭ রানের বিশাল জুটি। তাদের ব্যাটে ভর করে ৩০১ রান করে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব। পরে ডিএলএসের সংশোধিত লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে অগ্রণী ব্যাংক দ্রুত উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় ১৩২ রানে। এতে এবারের আসরে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় গুলশান।
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে নাটকীয় এক ম্যাচ উপহার দিয়েছে সিটি ক্লাব ও ঢাকা লেপার্ডস। জাকির হাসানের ১৩৭ রানের সেঞ্চুরিতে ৩০৬ রান তোলে লেপার্ডস। জবাবে খেলতে নেমে সিটি ক্লাব যখন ৯৬ রান তুলেছে, তখনই নামে বৃষ্টি। এরপর আর খেলা হয়নি। ডিএলএসের অঙ্কে দেখা যায়, ঠিক ওই রানটাই প্রয়োজন ছিল তাদের। তাতেই ১ রানের অবিশ্বাস্য জয় পেয়ে যায় সিটি ক্লাব।
অন্যদিকে আবাহনী ও ব্রাদার্সের ম্যাচও শেষ হয়নি নির্ধারিত দিনে। ফলে সেটিও গড়িয়েছে রিজার্ভ ডেতে। আর প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব বৃষ্টির সহায়তায় টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগের দিনটি ছিল এমন এক মঞ্চ, যেখানে আবহাওয়ার বাধাও ব্যাটারদের উজ্জ্বলতা ম্লান করতে পারেনি।









Discussion about this post