ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে টানা তৃতীয় জয়ের স্বপ্ন দেখছিল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। শুরুটাও হয়েছিল দারুণ। দুই ওপেনারের আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছিল দলটি। তবে ইনিংসের মাঝপথে ছন্দ হারানো, পরে বৈশাখী বৃষ্টির বাধা-সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় অধরাই থেকে গেল। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ২০ রানের জয় তুলে নেয় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
আজ বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টস জিতে ব্যাট করতে নামে রূপগঞ্জ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন দুই ওপেনার হাবিবুর রহমান ও আশিকুর রহমান শিবলি। তাঁদের ব্যাটে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৮৭ রান। হাবিবুর ছিলেন বেশি সাবলীল ও আক্রমণাত্মক। মাত্র ৫৬ বল খেলেই ৬১ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন শট। অন্যদিকে ইনফর্ম শিবলি কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও ইনিংস ধরে রাখার দায়িত্ব পালন করেন। ৬৭ বলে করেন ৩৬ রান।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পরই ম্যাচে ফেরে প্রাইম ব্যাংক। রূপগঞ্জের মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। আইচ মোল্লা দ্রুত আউট হলে চাপ আরও বেড়ে যায়। এরপর ইরফান শুক্কুর ও তানবির হায়দার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি।
আগের ম্যাচে ঝড়ো সেঞ্চুরি করে আলোচনায় থাকা সামিউন বশির রাতুলর দিকে তাকিয়ে ছিল রূপগঞ্জ। কিন্তু এদিন তিনি বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ৩৮ বলে ২৮ রান করে থেমে যান তিনি। চৌধুরী রিজওয়ান ৩০ রান যোগ করলেও ইনিংসের গতি বাড়াতে পারেননি। শেষদিকে অধিনায়ক শেখ মেহেদী ১৪ রান করে কিছুটা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৪৭.৫ ওভারে ২২৭ রানেই থেমে যায় রূপগঞ্জের ইনিংস।
প্রাইম ব্যাংকের বোলাররা পুরো ইনিংসেই ছিল নিয়ন্ত্রিত। আবু হায়দার রনি ৩ উইকেট নিয়ে রূপগঞ্জের ব্যাটিং ধসের প্রধান কারিগর হন। এছাড়া আলিস আল ইসলাম ও শামীম মিয়া দুটি করে উইকেট নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন।
২২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল প্রাইম ব্যাংক। ওপেনার শাহাদাত হোসেন দীপু দারুণ ব্যাটিং করেন। ৭১ বলে ৬১ রান করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। অন্য প্রান্ত থেকেও ব্যাটসম্যানরা প্রয়োজনীয় সমর্থন দেন। যদিও মাঝপথে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।
বৈশাখী বৃষ্টির পর মাঠের অবস্থা খেলার উপযোগী না থাকায় ম্যাচ আর শুরু করা সম্ভব হয়নি। তখন পর্যন্ত প্রাইম ব্যাংকের সংগ্রহ ছিল ২৫.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১০৮ রান। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে সেই অবস্থানেই এগিয়ে থাকায় ২০ রানের জয় পায় তারা।
রূপগঞ্জের হয়ে বল হাতে একটি করে উইকেট নেন সামিউন বশির রাতুল ও শেখ মেহেদী। তবে শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি তাদের ম্যাচে ফেরার সুযোগই দেয়নি। দুর্দান্ত শুরু করেও তাই হোঁচট খেতে হলো লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে, আর প্রাইম ব্যাংক তুলে নিল গুরুত্বপূর্ণ এক জয়।










Discussion about this post