চোটে ছিটকে থাকা থেকে ম্যাচ জেতানো নায়ক-এক ম্যাচেই যেন গল্পটা বদলে দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে অনুপস্থিত থাকার পর তৃতীয় ওয়ানডেতে সুযোগ পেয়ে সেটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন এই বাঁহাতি পেসার। পাকিস্তান সুপার লিগ ছেড়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের যথার্থতাও প্রমাণ করলেন নিজের পারফরম্যান্সেই।
সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে শুরু থেকেই ছিলেন ছন্দে। কাটার, স্লোয়ার আর নিখুঁত লাইন-লেংথে কিউই ব্যাটারদের বারবার ভুল করতে বাধ্য করেন তিনি। ৯ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে তুলে নেন ৫ উইকেট, যা বাংলাদেশকে এনে দেয় ৫৫ রানের দাপুটে জয়। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর ওয়ানডেতে আবার পাঁচ উইকেটের দেখা পাওয়া এই স্পেলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
এই পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে নতুন করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন মুস্তাফিজ। ওয়ানডেতে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে ছয়বার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি স্পর্শ করলেন তিনি, যেখানে আগে থেকেই ছিলেন ওয়াসিম আকরাম ও ট্রেন্ট বোল্ট। তাদের পাশে নিজের নাম বসিয়ে মুস্তাফিজ এখন এই এলিট তালিকার অন্যতম সদস্য।
তবে শীর্ষে এখনো এগিয়ে মিচেল স্টার্ক, যার দখলে রয়েছে ৯টি ফাইফার। মুস্তাফিজের বর্তমান পারফরম্যান্স বলছে, এই ব্যবধান কমানো তার পক্ষে অসম্ভব নয়। বিশেষ করে তুলনামূলক কম ইনিংসে এমন সাফল্য তার ধারাবাহিকতারই প্রমাণ।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসেও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন মুস্তাফিজ। ওয়ানডেতে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি তারই দখলে, যা এবার আরও সমৃদ্ধ হলো। আব্দুর রাজ্জাক ও সাকিব আল হাসান যেখানে চারবার করে এই কীর্তি গড়েছেন, সেখানে মুস্তাফিজ এককভাবে এগিয়ে। অন্যদিকে উদীয়মান পেসার নাহিদ রানা ইতোমধ্যেই নিজের সম্ভাবনার জানান দিচ্ছেন।
বিশ্ব ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ফাইফারের রেকর্ড এখনো অটুট ওয়াকার ইউনিসের দখলে, যিনি ১৩ বার এই কীর্তি গড়েছেন। তার পেছনে রয়েছেন মুত্তিয়া মুরালিধরন।









Discussion about this post