সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ১-১ ব্যবধানে সিরিজে ফিরে এসেছে স্বাগতিকরা। তাইতো আগামী ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি এখন রূপ নিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে। যে দল জিতবে, তারাই জিতবে সিরিজ।
টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। তবে শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে চাপে পড়ে কিউইরা। বিশেষ করে তরুণ পেসার নাহিদ রানা ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। আগুন ঝরানো গতির বোলিংয়ে তিনি একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রানে থামে সফরকারীরা।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে একমাত্র প্রতিরোধ গড়েন ওপেনার নিক কেলি। তিনি ১০২ বলে ৮৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ১৪টি চার। এছাড়া মুহাম্মদ আব্বাস করেন ১৯ রান এবং অধিনায়ক টম ল্যাথাম করেন ১৪ রান। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাহিদ রানা ১০ ওভারে ৩২ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। শরিফুল ইসলাম ২টি এবং তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার ও রিশাদ হোসেন নেন একটি করে উইকেট।
১৯৯ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মাত্র ২১ রানের মধ্যেই ফিরে যান সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার। এতে কিছুটা চাপে পড়লেও তৃতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত দারুণ জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। দুজনের ব্যাটে গড়ে ওঠে জয়সূচক ভিত।
তানজিদ হাসান তামিম ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। তিনি মাত্র ৫৮ বলে ৭৬ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা। অন্যপ্রান্তে শান্ত খেলেন পরিণত ইনিংস। ৭১ বলে ৫০ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও একটি ছক্কা।
শেষদিকে তাওহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বাকি কাজ সম্পন্ন করেন। হৃদয় ৩০ এবং মিরাজ ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ৩৫.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। হাতে তখনও ছিল ৮৭ বল এবং ৬ উইকেট।
এই জয়ে শুধু সিরিজে সমতা নয়, আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেল বাংলাদেশ দল। প্রথম ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং-তিন বিভাগেই দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে টাইগাররা। এখন চট্টগ্রামের শেষ ম্যাচ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
নিউজিল্যান্ড: ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮/১০ (নিকোলস ১৩, কেরি ৮৩, ইয়াং ২, ল্যাথাম ১৪, আব্বাস ১৯, ফক্সক্রফট ১৫, ক্লার্কসন ৬, স্মিথ ১৮*, টিকনার ১২, লেনক্স ০, ও’রোক ৬; তাসকিন ৯.৪-১-৪৬-১, শরিফুল ১০-১-৩২-২, নাহিদ ১০-১-৩২-৫, সৌম্য ৪-০-২৭-১, মিরাজ ১০-০-৩৮-০, রিশাদ ৫-০-২১-১)
বাংলাদেশ: ৩৫.৩ ওভারে ১৯৯/৪ (সাইফ ৮, তানজিদ ৭৬, সৌম্য ৮, শান্ত আহত অবসর ৫০*, লিটন ৭, হৃদয় ৩০*, মিরাজ ৮*; স্মিথ ৭-১-৪৬-১, ও’রোক ৭-০-৪১-১, টিকনার ৫-০-৩৫-০, ফক্সক্রফট ৫.৩-০-২৬-০, লেনক্স ৯-২-৩৬-২, ক্লার্কসন ২-০-১১-০)
ফল: ৬ উইকেটে জয়ী বাংলাদেশ
ম্যাচসেরা: নাহিদ রানা










Discussion about this post