রাজশাহীর বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের জন্ম দেয় বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা নারী দল। পুরো ম্যাচজুড়ে ছিল ওঠানামা, যেখানে কখনও এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা, আবার কখনও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় লঙ্কানদের হাতে। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপ সামলে ৩ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
আজ শুরুতে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ধীরে হলেও পরিকল্পিত ইনিংস গড়ে তোলে। ওপরে দ্রুত উইকেট না হারিয়ে মাঝের দিকে দুটি অর্ধশতকে ভর করে ২০৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। হানসিমা করুনারত্নে ও ইমেশা দুলানির ফিফটি দলকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেয়। বাংলাদেশের বোলাররা মাঝে মাঝে উইকেট তুলে নিলেও বড় জুটি ভাঙতে বেশ সময় লেগেছে, যা প্রতিপক্ষকে সুবিধা দিয়েছে।
২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। টপ অর্ডারের ব্যাটাররা দ্রুত ফিরে গেলে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় দল। তবে এই ধাক্কা সামলে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন শারমিন আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি। তাদের জুটি শুধু রানই বাড়ায়নি, দলের ভরসাও ফিরিয়ে আনে।
সোবহানা ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়লেও শারমিন নিজের ইনিংসটিকে বড় করেন। ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে তিনি একদিকে যেমন উইকেট আগলে রাখেন, অন্যদিকে সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি হাঁকান। স্বর্ণা আক্তারের সঙ্গে তার জুটিও বাংলাদেশকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে যায়।
কিন্তু ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় অংশটি আসে একেবারে শেষ দিকে। জয়ের জন্য যখন খুব কম রান দরকার, তখনই হঠাৎ করে একের পর এক উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। মাত্র দুই রানের মধ্যে চার ব্যাটার আউট হয়ে গেলে ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। শ্রীলঙ্কার বোলাররা তখন ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।
শেষ পর্যন্ত নাহিদা আক্তার ও সুলতানা খাতুন চাপের মুখে ভেঙে না পড়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। ছোট লক্ষ্য হলেও তা অর্জন করতে যে ধৈর্য প্রয়োজন, সেটিই দেখান তারা। তাদের সংযত ব্যাটিংয়ে ৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। আগামী শনিবার তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রাজশাহীর মাঠেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ২০৫/৯ (হানসিমা ৫৪, দুলানি ৫২, কাভিশা ৩০ পেরেরা ২৭ ; রিতু ৩/৩৬, নাহিদা ২/৩৮, মারুফা ১/২৪, সুলতানা ১/৪০, রাবেয়া ১/৩১)।
বাংলাদেশ: ৪৮.৩ ওভারে ২০৬/৭ (শারমিন ৮৬, সোবহানা ৪১, স্বর্ণা ৩৫, নিগার ১৩; ভিহাগা ৩/৪৩, মাদারা ২/৩৭, নিমাশা ১/৩১)।
ফল: বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: শারমিন আক্তার










Discussion about this post