মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যেন একাই ম্যাচের গল্প লিখলেন নাহিদ রানা। গতি আর আগ্রাসনের মিশেলে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেন এই তরুণ পেসার। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করতে নেমে কিউইরা শুরু থেকেই চাপে পড়ে, আর সেই চাপ ক্রমশ দমবন্ধ পরিস্থিতিতে রূপ নেয় রানার ধারালো বোলিংয়ে।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের শুরুটা ছিল সতর্ক, কিন্তু সেই সতর্কতা বেশিক্ষণ টেকেনি। নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নিয়ে বার্তা দেন নাহিদ রানা, আর পরের ওভারেই আরেকটি আঘাত হেনে প্রতিপক্ষকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন। তার আগুনঝরা স্পেলের সামনে টিকতে পারেননি টপ অর্ডারের ব্যাটাররা। মাঝে অধিনায়ক টম ল্যাথাম কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও সেটি বড় কিছু হয়ে ওঠেনি।
এই ধ্বংসস্তূপের মাঝেও আলাদা করে চোখে পড়েছেন নিক কেলি। ধৈর্য আর বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস গড়েছেন তিনি। ফিফটি পেরিয়ে সেঞ্চুরির দিকেও এগোচ্ছিলেন, কিন্তু দলীয় সমর্থনের অভাবে তার ইনিংস শেষ পর্যন্ত একা লড়াই হিসেবেই থেকে যায়। ৮৩ রানের এই ইনিংসই নিউজিল্যান্ডকে দুইশ’র কাছাকাছি নিয়ে যেতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
মাঝে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা হলেও নিয়মিত উইকেট হারানোয় বড় জুটি গড়ে উঠেনি। আব্বাস ও ফক্সক্রফট ছোট ছোট অবদান রাখলেও সেগুলো ম্যাচের চিত্র পাল্টানোর মতো ছিল না। শেষ দিকে আবারও দৃশ্যপটে ফিরে আসেন নাহিদ রানা, গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। তার এই ফাইফার নিউজিল্যান্ডের সম্ভাব্য বড় সংগ্রহের সব পথ বন্ধ করে দেয়।
শেষদিকে কিছু বাড়তি রান যোগ হলেও ১৯৮ রানে থামে সফরকারীরা। বাংলাদেশের অন্য বোলাররাও সাপোর্টিং ভূমিকায় ছিলেন, বিশেষ করে শরিফুল ইসলামের দুটি উইকেট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যদিও স্লো ওভার রেটের কারণে শেষ দিকে কিছুটা চাপে পড়তে হয় এবং একটি সহজ ক্যাচ মিস করাও দলের জন্য আক্ষেপ হয়ে থাকতে পারে।









Discussion about this post