ঢাকা প্রিমিয়ার লিগকে ঘিরে অনিশ্চয়তার দীর্ঘ অধ্যায় শেষে এবার সামনে এগোনোর ইঙ্গিত মিলছে। দলবদলের তারিখ ঘোষণার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফের সক্রিয়তা ফিরে আসার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এই লিগকে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও সাজাতে শুরু করেছেন ক্রিকেটাররা।
ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) নিশ্চিত করেছে, আগামী ১৮ ও ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে দলবদল। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই দুই দিনে নির্ধারিত হবে কে কোন দলের হয়ে খেলবেন। এর মধ্য দিয়েই কার্যত শুরু হবে এবারের প্রিমিয়ার লিগের প্রস্তুতি।
দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি প্রকাশ করেছে ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)।
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ‘আমরা জেনে খুবই আনন্দিত যে, আগামী ১৮ এবং ১৯ এপ্রিল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলবদল অনুষ্ঠিত হবে। পহেলা বৈশাখের প্রাক্কালে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই ঘোষণা দেশের ক্রিকেটারদের জন্য একটি দারুণ সুসংবাদ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মাঠে গড়াতে চলেছে খেলা।’
শুধু লিগ মাঠে ফেরাই নয়, এই প্রতিযোগিতাকে বড় লক্ষ্য পূরণের প্রস্তুতি হিসেবেও দেখছেন ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতির জন্য ডিপিএলকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে কোয়াব, ‘একই সাথে আমরা জানতে পেরে আনন্দিত যে, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ১২টি ক্লাবই অংশগ্রহণ করবে। সব দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রিমিয়ার লিগ দেশের ক্রিকেট এগিয়ে নেওয়ার পথে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একইসাথে আমরা আশা রাখছি, আসন্ন তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগেও সবগুলো দল অংশগ্রহণ করবে। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে আমাদের একদিনের ক্রিকেটে যেসব জায়গায় উন্নতি প্রয়োজন, সেখানে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ অনেকটাই সহায়তা করবে।’
এবারের লিগ কিছুটা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আয়োজন করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে আয়োজন সম্ভব না হওয়ায় আসরটি সংক্ষিপ্ত পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে। তবে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা প্রতিযোগিতার মান ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
লিগ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছিল ক্রিকেটারদের জীবনে। আয়-রোজগারের অন্যতম প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই পড়েছিলেন অনিশ্চয়তায়। সেই জায়গা থেকে দলবদলের ঘোষণাকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। তিনি বলেন, ‘এই খবরটি সকল ক্রিকেটার ও তাদের পরিবারের জন্য স্বস্তির। গত অক্টোবর থেকে ক্রিকেটার ও তাদের পরিবারগুলোর মাঝে যে আর্থিক অনিশ্চয়তা ছিল, তা এখন কেটে যাবে। কোয়াব আশা করছে দলবদল প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং এর মাধ্যমে লীগের মাঠের খেলা দ্রুত শুরু হওয়ার পথ আরও সুগম হবে।’










Discussion about this post