বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) একদিনেই চার পরিচালকের পদত্যাগের ঘটনায় সংস্থাটির ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার দীর্ঘ বোর্ড সভার দিনই এই পদত্যাগগুলো ঘটে, যা বিসিবির সাম্প্রতিক অস্থিরতার চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
গতকাল দুপুরে শুরু হওয়া বোর্ড সভা চলাকালীনই ডিসিপ্লিনারি কমিটির প্রধান ফায়াজুর রহমান মিতু পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে সভা শেষ হওয়ার আগেই চলে যান। এরপর সভা শেষ হতেই একে একে পদত্যাগ করেন ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত পরিচালক শাহনিয়ান তানিম, মেহেরব আলম এবং মঞ্জুরুল আলম। তারা সবাই পদত্যাগের কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করলেও বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি।
পদত্যাগকারী চারজনই গত বছরের অক্টোবরে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হয়ে পরিচালনা পর্ষদে যোগ দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে শাহনিয়ান তানিম ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের চেয়ারম্যান, মেহেরব আলম সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান এবং মঞ্জুরুল আলম মেডিকেল কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে ফায়াজুর রহমান মিতু ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যানের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিস ক্রিকেট কমিটির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
এর আগেও একই ধারা লক্ষ্য করা গেছে। ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত ইশতিয়াক সাদেক ও আমজাদ হোসেন এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত পরিচালক ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। ফলে ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ থেকে মোট সাতজনই সরে দাঁড়িয়েছেন, যদিও বিসিবির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদত্যাগপত্র গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এই ধারাবাহিক পদত্যাগের পেছনে বিসিবি নির্বাচনের বিতর্কও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে সামনে এসেছে। গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ ওঠায় ১১ মার্চ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা, এবং সেটি প্রকাশের আগেই পরিচালকদের একের পর এক সরে দাঁড়ানো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বোর্ডের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। মিডিয়া ও কমিউনিকেশন কমিটির প্রধান মোখসেদুল ইসলাম পদত্যাগগুলোকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন, পদত্যাগকারীরা বিসিবির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। নারী বিভাগের প্রধান রুবাবা দৌলাও বোর্ডের ভেতরে কোনো অস্থিরতা নেই বলে দাবি করেছেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তবে সব পরিচালক একইভাবে বিষয়টিকে দেখছেন না। কেউ কেউ স্বীকার করেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে এত সংখ্যক পরিচালকের পদত্যাগ স্বাভাবিক নয়। যদিও তারা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে গভীর বিশ্লেষণে যেতে চাননি।










Discussion about this post