বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) চলমান অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে পরিচালকদের ধারাবাহিক পদত্যাগে। সর্বশেষ ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ায় বোর্ডের ভেতরের সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও তার এই সিদ্ধান্ত বিসিবির সামগ্রিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে আরও।
লজিস্টিকস অ্যান্ড প্রটোকল কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন ফয়সাল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনীত পরিচালক হিসেবে তার ভূমিকা ছিল বোর্ডের বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয়ে। তার বিদায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর আগে আমজাদ হোসেন ও ইশতিয়াক সাদেকের পদত্যাগও একইভাবে বিসিবিকে চাপে ফেলে। একের পর এক অভিজ্ঞ পরিচালকের সরে দাঁড়ানো বোর্ডের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আরও কয়েকজন পরিচালক পদত্যাগ করতে পারেন-এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছে।
এই অস্থিরতার প্রভাব মাঠের ক্রিকেটেও পড়ছে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট সময়মতো শুরু না হওয়ায় ক্রিকেটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে ক্রিকেটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বোর্ড পরিচালনা, টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং অভ্যন্তরীণ সংকট-সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে তাকে। এমন পরিস্থিতিতে ৪ এপ্রিল মিরপুরে বোর্ড সভা ডাকা হয়েছে, যা বর্তমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বিসিবির এই সংকটের মূল শেকড় খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় গত বছরের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত বোর্ড নির্বাচনে। সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওঠা অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ এখনও পুরোপুরি থামেনি। নির্বাচন বর্জন, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন এবং বিভিন্ন পক্ষের অসন্তোষ-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা নির্বাচনের অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে এনএসসির তদন্ত কমিটির সভাপতি। সদস্য হিসেবে আছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক সাইদুজ্জামান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালেহ আকরাম।










Discussion about this post