টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগ থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে সরব ছিলেন আমিনুল হক। দায়িত্ব গ্রহণের পর সংসদ অধিবেশনে তার বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়েই উঠে এসেছে বিসিবি ও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ।
রোববার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন বিসিবি নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে জবাবে প্রতিমন্ত্রী কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।
আজ আমিনুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যে অর্থ কিংবা জনবল, তারা বিগত সময়ে যে ভোটের অধিকার হরণ করতে একটি গ্রুপকে সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের অপকর্ম করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই বোর্ডের যারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সেই সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ইনশা আল্লাহ। পাশাপাশি আমাদের সবশেষ ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নেওয়ার কিছু ইস্যু আমার সামনে পরিলক্ষিত হয়েছে। আমাদের যে দুদকের মহাপরিচালক রয়েছেন, তার কাছে আহ্বান করব এই বিষয়ে কোনো তদন্ত বা কিছু থাকলে যেন আমাদের জানান এবং সেগুলো যেন জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়।’
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে অতীত সরকারের সময় ক্রীড়াঙ্গনের অবস্থা নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা সকলেই জানেন যে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকে ২০০৮ সাল থেকে ক্রিকেট বোর্ডসহ দলীয়করণ এবং রাজনীতিকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে যে স্থবিরতা নিয়ে এসেছিল এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন যেভাবে ধ্বংসের পথে চলে গেছে, সেই ধ্বংসস্তূপ ক্রীড়াঙ্গনকে নতুনভাবে দলীয়করণমুক্ত, রাজনীতিকরণমুক্ত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে চলেছি। ২০০৮ সাল থেকে যারা এই দলীয় সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে যারা অবৈধ নিয়োগ হয়েছে, সে সব আমরা দ্রুতই তদন্ত কমিটি করে কারা জড়িত ছিল, ইনশাআল্লাহ জাতির সামনে নিয়ে আসব।’
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও জানান, বিসিবির অতীত কার্যক্রম, বিশেষ করে নির্বাচন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত বছরের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচন নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
এছাড়া ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার কারণ অনুসন্ধানেও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা আগেই দিয়েছেন তিনি।
জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক হিসেবে পরিচিত আমিনুল হক দেশের ইতিহাসে প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ক্রীড়াঙ্গনে শুদ্ধি অভিযান, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন। তার মতে, অতীতের অনিয়ম দূর করে একটি স্বচ্ছ, দক্ষ এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত ক্রীড়া কাঠামো গড়ে তোলাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।










Discussion about this post