মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সেই শীতল বিকেলটি যেন আবার নতুন করে আলোচনায়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ব্যাটারদের কাঁপিয়ে দেওয়া তাসকিন আহমেদের সেই বিধ্বংসী বোলিং এবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।
জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো ২০২৫ সালের সেরা টি–টোয়েন্টি লিগ পারফরম্যান্স হিসেবে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশের এই পেসারের ঐতিহাসিক স্পেলকে।
গত বছরের বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেলতে নেমে তাসকিন বল হাতে যেন একাই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন। মাত্র ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে তুলে নেন ৭ উইকেট, টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে যা অত্যন্ত বিরল এক কীর্তি। তার সেই বোলিংয়ে ঢাকা ক্যাপিটালসের ব্যাটিং লাইনআপ প্রায় ভেঙে পড়ে। ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে তার হাতেই।
সেদিন তাসকিনের বোলিংয়ের সামনে টিকতে পারেননি ঢাকার কোনো ব্যাটারই। লিটন দাসকে দিয়ে শুরু হয় উইকেটের মিছিল। এরপর একে একে আউট হন তানজিদ হাসান তামিম, শাহাদাত হোসেন দীপু, চতুরঙ্গ ডি সিলভা, আলাউদ্দিন বাবু, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ এবং শুভম রানজানে। তার গতিময় ও নিখুঁত বোলিংয়ে ব্যাটাররা যেন দিশেহারা হয়ে পড়েন।
বিপিএলের ইতিহাসেও এমন বোলিং খুব কমই দেখা গেছে। এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়ার ঘটনা এই টুর্নামেন্টে মাত্র একবারই ঘটেছে, আর সেটি তাসকিনের নামেই। দ্বিতীয় সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আমিরের, যিনি ২০২০ সালের বিপিএলে ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন।
টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ইনিংসে ৭ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার নজির বিশ্ব ক্রিকেটেও হাতে গোনা। সেই বিরল তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তাসকিনও। বিপিএলে পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২৪ বার, তবে ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব তাসকিনের রয়েছে দুবার।
ক্রিকইনফোর বর্ষসেরা টি–টোয়েন্টি লিগ পারফরম্যান্সের পুরস্কারের জন্য তাসকিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন ইংল্যান্ডের স্পিনার নাথান সোওটার। দ্য হান্ড্রেডের ফাইনালে ট্রেন্ট রকেটসের বিপক্ষে ওভাল ইনভিন্সিবলসের হয়ে ২৫ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তবে তুলনামূলকভাবে তাসকিনের বিধ্বংসী স্পেলই বছরের সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
একই সময়ে ক্রিকেটের বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে বর্ষসেরা পারফরমারদেরও ঘোষণা করেছে ক্রিকইনফো। দক্ষিণ আফ্রিকার টেম্বা বাভুমা নির্বাচিত হয়েছেন পুরুষদের বর্ষসেরা অধিনায়ক। তার নেতৃত্বেই লর্ডসে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ২০২৩–২৫ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দীর্ঘ ২৭ বছরের আইসিসি শিরোপা খরা কাটায় দলটি।
নারীদের ক্রিকেটে বর্ষসেরা অধিনায়ক হয়েছেন ভারতের হারমানপ্রীত কৌর, যার নেতৃত্বে ভারত ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে।
টেস্ট ক্রিকেটে বছরের সেরা ব্যাটিং পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করাম। লর্ডসে সেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৭ বলে ১৩৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
আর আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে জাতীয় দলের হয়ে বছরের সেরা বোলিং পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেয়েছেন ভারতের স্পিনার কুলদীপ যাদব। এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন তিনি।










Discussion about this post