কয়েক মাস পর একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে দারুণ এক জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ। বল হাতে নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে স্বল্প রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান, আর ছোট লক্ষ্য তাড়ায় তানজিদ হাসান তামিমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সহজেই ৭ উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩০.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান করে পাকিস্তান। এটি বাংলাদেশের বিপক্ষে একদিনের ক্রিকেটে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ফাহিম আশরাফ। বাংলাদেশ দলের হয়ে ২৪ রান খরচায় পাঁচ উইকেট নেন নাহিদ রানা।
শুরুর দিকে নতুন বলে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও উইকেটের দেখা পাননি। এরপর সপ্তম ওভারে স্পিনে আক্রমণ করেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, কিন্তু সেখানেও উইকেট আসেনি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে নাহিদ রানাকে আক্রমণে এনে সাফল্য পান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
ওই ওভারের শেষ বলে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের হাতে ধরা পড়ে ফেরেন সাহিবজাদা ফারহান। তার বিদায়ে ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায়। এরপর নিজের পরের চার ওভারের প্রতিটিতেই উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান নাহিদ। শ্যামল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগাকে সাজঘরে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই ডানহাতি পেসার।
ইনিংসের ১৯তম ওভারে উইকেট শিকারে যোগ দেন মিরাজও। তার বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে ধরা পড়ে ফেরেন আব্দুল সামাদ। পরে হোসাইন তালাতকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি। একই ওভারের শেষ বলে শাহিন আফ্রিদিকেও সাজঘরে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
পরে দ্বিতীয় স্পেলে এসে একটি উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। তার বলে প্রথম স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধরা পড়ে ফেরেন মোহাম্মদ ওয়াসিম।
৮২ রানে নবম উইকেট হারিয়ে একশর আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান। তবে শেষদিকে ফাহিম আশরাফ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। আবরার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে শেষ উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়েন তিনি। ফাহিমের ৩৭ রানের ইনিংসে ভর করে কোনোরকমে একশ পেরিয়ে অলআউট হয় পাকিস্তান।
১১৫ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই সাইফ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। ৪ রান করে আউট হলে ২৭ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। তবে অন্য প্রান্তে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তানজিদ হাসান তামিম।
তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই বড় রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ। মাত্র ৩২ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তানজিদ। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। অন্যদিকে নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ২৭ রান।
মাত্র ১৫.১ ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে ১১৫ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। হাতে ছিল আরও ২০৯ বল। একদিনের ক্রিকেটে এর চেয়ে বেশি বল হাতে রেখে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র দুই ম্যাচে।
এই জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান নাহিদ রানার। বল হাতে পাঁচ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন তিনি, আর তানজিদ হাসান তামিমের ঝড়ো ইনিংসে সহজ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
পাকিস্তান: ৩০.৪ ওভারে ১১৪/১০ (ফাহিম ৩৭, ফারহান ২৭; নাহিদ ৫/২৪, মিরাজ ৩/২৯)।
বাংলাদেশ: ১৫.১ ওভারে ১১৫/২ (তানজিদ ৬৭*, নাজমুল ২৭; আফ্রিদি ১/৩৫)।
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: নাহিদ রানা










Discussion about this post