কলকাতায় কার্যত কোয়ার্টার-ফাইনালে রূপ নেওয়া ডু অর ডাই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৯৫ রান ৪ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে ভারত। ৫ উইকেটের জয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে তারা। আগামী বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত, আর আগের দিন কলকাতায় প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। তবে ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন একজন-অপরাজিত ৯৭ রানের অনন্য ইনিংস খেলা সাঞ্জু স্যামসন।
৫০ বলে ৯৭ রানের ইনিংসে ছিল চারটি ছক্কা ও ১২টি চার। মাত্র ২৬ বলেই ফিফটি তুলে নেওয়ার পর মনে হয়েছিল, আরও ঝড় তুলবেন তিনি। কিন্তু সেখানেই যেন বদলে গেল তাঁর ব্যাটিংয়ের ছন্দ। নতুন করে গার্ড নিলেন, সময় নিলেন, নিজেকে গুছিয়ে নিলেন। দায়িত্বশীলতায় ভর করে উইকেট আগলে রেখে দলকে টেনে নিলেন জয়ের বন্দরে। এত বছরের আন্তর্জাতিক পথচলার পর বড় মঞ্চে দেশের হয়ে এমন ইনিংস-স্বাভাবিকভাবেই আবেগে ভেসেছেন স্যামসন।
ম্যাচ-সেরার পুরস্কার নেওয়ার পর সঞ্চালক ইয়ান বিশপ জানতে চেয়েছিলেন, এই ইনিংসের মাহাত্ম্য তাঁর নিজের কাছে কতটা। ৩১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান লাজুক হাসিতে খুলে দেন হৃদয়ের দুয়ার, ‘সত্যি বলতে, এটা আমার কাছে গোটা দুনিয়া পেয়ে যাওয়ার মতো। ঠিক যেদিন থেকে খেলা শুরু করেছিলাম, দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখছিলাম, আমার মনে হয়, এই দিনটির অপেক্ষাতেই ছিলাম।’
স্যামসনের ক্যারিয়ার যেন লড়াইয়ের আরেক নাম। ২০১৩ সাল থেকে আইপিএলে নিয়মিত খেলে টুর্নামেন্টটির অন্যতম উজ্জ্বল তারকা হয়ে উঠলেও জাতীয় দলে তার যাত্রা ছিল টালমাটাল। ২০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক অভিষেক, এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা। ২০২০ সালে প্রত্যাবর্তন করেও থিতু হতে পারেননি। ওয়ানডে সংস্করণে ১৬ ম্যাচে গড় ৫৬.৬৬ ও স্ট্রাইক রেট ৯৯.৬০ হলেও সুযোগ এসেছে-গেছে। টি-টোয়েন্টিতে ২০২৪ সালের দিকে কিছুটা স্থিতি এলেও পারফরম্যান্সের ওঠানামা, ব্যাটিং পজিশন নিয়ে টানাপোড়েন আর একাদশের বাইরে থাকা, সবই ছিল তার গল্পের অংশ।
বিশ্বকাপে এবারই প্রথম খেলছেন তিনি। এত বড় চাপের ম্যাচে অভিজ্ঞতা না থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে খেলার ভেতরে-বাইরে থেকে শেখার কথা মনে করিয়ে দিলেন স্যামসন, ‘অনেক দিন ধরেই এই সংস্করণ খেলছি। আইপিএলে খেলছি ১০-১২ বছর ধরে, দেশের হয়ে ১০ বছর ধরে। খুব বেশি মাঠে নামার সুযোগ পাইনি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে), তবে ডাগআউট থেকে দেখে, ভিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা ও অন্য গ্রেটদের দেখে শিখেছি। তারা কী করছেন, সেসব পর্যবেক্ষণ করা ও সেখান থেকে শেখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাকে এটা সহায়তা করেছে আরও অভিজ্ঞ হয়ে উঠতে।’
আবেগ ছুঁয়ে যায় তার কণ্ঠে, ‘কখনোই ভাবতে পারিনি, এরকম স্পেশাল কিছু করব। স্রেফ নিজের ভূমিকায় মনোযোগ রাখছিলাম এবং প্রতিটি বল ধরে এগোচ্ছিলাম। আমার মনে হয়, আমার জীবনের সেরা দিনগুলির একটি এটি।’










Discussion about this post