বিসিএল ওয়ানডে কাপ-এ সেন্ট্রাল জোনের পাঁচ উইকেটের জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন আবু হায়দার রনি। ৪২ বলে হার না মানা ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। মূলত বোলার হিসেবে পরিচিত হলেও এদিন ব্যাট হাতে হয়ে ওঠেন ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়া ক্রিকেটার। সাম্প্রতিক কয়েকটি টুর্নামেন্ট ধরেই ব্যাট হাতে কার্যকর ভূমিকা রাখার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন রনি, আর এই ম্যাচে সেই ধারাই আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
ম্যাচ শেষে নিজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমি চেষ্টা করি এখন আমার দুইটা পার্ট থেকেই। শুধু দুইটা পার্ট না, আমি তিনটা পার্ট থেকে চেষ্টা করি যেন আমার সর্বোচ্চটা দিতে পারি। আর আমার প্রথম কাজ হচ্ছে বোলিং।’
শুধু ব্যাট হাতেই নয়, বল হাতেও একটি উইকেট শিকার করেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলীয় অর্জনকেই প্রাধান্য দিয়েছেন রনি। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ আজকে ভালো বোলিং হয়েছে যে সুন্দর উইকেট ছিল, আমরা যেভাবে কামব্যাক করেছি, তো আমার কাছে মনে হয় আমাদের বোলাররা খুবই চমৎকার বোলিং করেছে আর আলহামদুলিল্লাহ যে আমি ফিনিশ করতে পারছি আমার দল জিততে পেরেছে এটার জন্য খুবই খুশি।’
রমজান মাসেও স্টেডিয়ামে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় পূর্ণ গ্যালারির সামনে খেলতে নেমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই ক্রিকেটার। দর্শকদের উদ্দেশ্যে রনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ খুবই ভালো। আমি সবসময় আশা করি যে বগুড়ায় এসে খেলব আর বগুড়ার উইকেট আউটফিল্ড আর দর্শক হেডস আপ। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ আপনারা সবাই রমজান মাসে এসেছেন খেলা দেখতে আরও বেশি বেশি আসবেন।’
এই ম্যাচে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামেন রনি, একজন পুরোদস্তুর ব্যাটারের ভূমিকায়। তাকে ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের কৌশলগত পরিকল্পনা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের একটা দলের প্ল্যান ছিল এটা। মোসাদ্দেক স্যারের সাথে কথা বলেছে, অঙ্কন স্যারের সাথে কথা বলেছে যে যেহেতু আমাদের রান রেটটা একটু কম ছিল আমাকে উপরে পাঠানোর জন্য যেন আমি গিয়ে একটু দ্রুত রান তুলে খেলতে পারি। তো আলহামদুলিল্লাহ ওই প্ল্যানটা আমি এক্সিকিউট করতে পেরেছি। দল জিতেছে এটার ওপর আর কোনো কথা নেই।’
রান রেটের চাপের মুহূর্তে দ্রুত রান তুলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রনি। তার ৪২ বলে ৬৬ রানের ইনিংসই শেষ পর্যন্ত সেন্ট্রাল জোনের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। দায়িত্বশীল ফিনিশিংয়ে তিনি প্রমাণ করেন, প্রয়োজন হলে ব্যাট হাতেও দলের আস্থার প্রতীক হতে পারেন।
ম্যাচ শেষে বগুড়ার উইকেট নিয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন রনি। তিনি বলেন, ‘খুব ভালো উইকেট। মানে আমাকে যদি রেটিং করতে বলেন আমি, অবশ্যই বাংলাদেশের সেরা (উইকেট)।’
নিজের পারফরম্যান্স ও ধারাবাহিকতা নিয়ে রনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে সবাই চেষ্টা করে দলে অবদান রাখার জন্য। তো আলহামদুলিল্লাহ আমি এটা করতে পেরেছি। ক্রিকেট খেলাটা এরকম যে একদিন আপনি ভালো করবেন একদিন খারাপ খেলবেন। ধারাবাহিকতা বজায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তো আলহামদুলিল্লাহ আজকে ভালো করতে পেরেছি। চেষ্টা করব পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও দলের জন্য অবদান রাখতে।’










Discussion about this post