আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ইবাদতের পবিত্র মাস মাহে রমজান। মুসলিম বিশ্বের কাছে এটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সময়, যখন রোজা পালন ফরজ। ঠিক এমন এক সময়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে রোজা রেখেই মাঠে নেমে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। শুধু অংশগ্রহণই নয়, পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত নাম।
শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার দুর্দান্ত ব্যাটিং ইতিমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে। সেই ইনিংসটি আরও বিশেষ হয়ে ওঠে একটি কারণে-তিনি পুরো সময়টাই ছিলেন রোজা অবস্থায়। ব্যাটিংয়ের ফাঁকেই মাঠে ইফতার সেরে আবার ব্যাট হাতে ফিরেছেন লড়াইয়ে।
ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন-ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজা জানিয়েছেন, রোজা রাখার কারণে তিনি কোনো দুর্বলতা অনুভব করেননি। বরং তার মতে, রোজা তাকে মানসিকভাবে আরও দৃঢ় করেছে। সেহরি পর্যন্ত জেগে ছিলেন তিনি, যেন সময়মতো খেতে ভুল না হয়। দুধ, খেজুর, মধু ও ফলমূল দিয়ে সেহরি শেষ করে প্রস্তুত হন ম্যাচের জন্য।
রোজা প্রসঙ্গে তার উপলব্ধি স্পষ্ট-কখনও কখনও কঠিন মনে হলেও এটি শক্তি কমায় না, বরং বাড়িয়ে দেয়। তার ভাষায়, বিশ্বাস থাকলে রোজা মানুষকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয়। সেই আত্মবিশ্বাসই যেন প্রতিফলিত হয়েছে তার ব্যাটিংয়ে।
এই বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের পারফরম্যান্সও চমক জাগানো। নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার এইটে উঠেছে তারা। শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তিকে হারিয়ে আলোচনায় এলেও দলটি এখনো প্রত্যাশিত মর্যাদা পাচ্ছে না বলে আক্ষেপ রাজার। তার মতে, অনেকেই জিম্বাবুয়েকে এখনও ‘সহযোগী’ মানসিকতায় দেখে, অথচ তারা একটি টেস্ট খেলুড়ে দেশ। একই প্রসঙ্গে তিনি আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের কথাও উল্লেখ করেন।
রাজার দাবি, বিশ্বকাপের মঞ্চে সব দলেরই সমান সুযোগ থাকে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, অনেকেই স্কটল্যান্ডের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছিল। ক্রিকেটে আগাম ধারণা দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়; মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলে।










Discussion about this post