উপমহাদেশে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের প্রতিটি ম্যাচ যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একেকটি আক্ষেপের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। অনেকেরই মনে হয়েছে, এই মঞ্চে তো থাকার কথা ছিল বাংলাদেশের উড়ত লাল-সবুজের পতাকা, বাজত জাতীয় সংগীত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি। আর এই অনুপস্থিতি ঘিরেই উঠেছে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক। বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হক এ প্রসঙ্গে সরব হয়ে ঘটনাপ্রবাহের পেছনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।
সৈয়দ আশরাফুল হক মনে করেন, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলায় পাকিস্তানের প্ররোচনা থাকতে পারে। তবে তিনি সরাসরি রাজনীতিকে সামনে আনতে চাননি। তার ভাষায়, ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে তিনি সততা ও দায়িত্ববোধকেই অগ্রাধিকার দেন। তবু তার ধারণা, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সম্ভবত পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির প্রভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন-দিনশেষে কে জিতেছে? -যা পুরো ঘটনাকে নতুন করে ভাবার অবকাশ তৈরি করেছে।
আশরাফুল হক বলেন, ‘এখানে আমি রাজনীতি টেনে আনছি না। ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে আমি সততা ও দায়িত্ববোধের দিকে বেশি নজর দিই। আমার মনে হয় আমিনুল ইসলাম বুলবুল সম্ভবত মহসিন নাকভির দ্বারা প্ররোচিত হয়েছেন। দিনশেষে কে জিতেছে?’
বাংলাদেশ-ভারত রাজনৈতিক শীতলতার প্রভাব যে ক্রিকেটেও পড়েছে, সেটিই নাকি এই ঘটনার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে। লিটন দাস, মুস্তাফিজুর রহমান ও তানজিদ হাসান তামিমদের মতো ক্রিকেটাররা আইসিসির বৈশ্বিক মঞ্চে খেলতে পারেননি। একপর্যায়ে পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিলেও লাহোরে বিসিবি, পিসিবি ও আইসিসির ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। বিসিবি সভাপতির মধ্যস্থতায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন হলেও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি কৃতিত্ব দেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকেকে, সেখানে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নাম উচ্চারিত হয়নি।
আশরাফুল বলেন, ‘বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার বিশেষ করে ক্রীড়া উপদেষ্টা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা ছিল অপরিপক্ক। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর হঠাৎ করেই এত বড় সিদ্ধান্ত। আমাদের হাতে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে দেন দরবার করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল। ভারতীয় সরকারের সঙ্গেও কথা বলতে পারতাম। আইসিসি এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ও নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। যদি আমাদের দুশ্চিন্তার জায়গা থাকত, তাহলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার ব্যাপারে সরকার অনুরোধ করতে পারত।’
এই পুরো সংকটের সূচনা মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায়। ৩ জানুয়ারি কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে ছেড়ে দেওয়ার পরদিনই বিসিবি সিদ্ধান্ত নেয়, ভারত আয়োজিত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ নেবে না। সৈয়দ আশরাফুল হক মনে করেন, এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিসিসিআই কিংবা ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ ছিল। তাঁর বক্তব্য, আইসিসিই টুর্নামেন্ট আয়োজন ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে। যদি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকত, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়তি নিশ্চয়তা চাইতে পারত। তাঁর মতে, তৎকালীন সরকারের বিশেষ করে ক্রীড়া উপদেষ্টার সিদ্ধান্ত ছিল অপরিপক্ক।
তিনি আরও বলেন, মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পরপরই হঠাৎ করে বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা কৌশলগতভাবে পরিণত ছিল না। তাঁর বিশ্বাস, কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিয়ে নতুন সূচি তৈরি করে।










Discussion about this post