ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ (সংসদীয় আসন ১৮৯) আসনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোঃ আমিনুল হক নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত এবং বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোতে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি দাখিল করা আবেদনে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তোলেন।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এবং নির্বাচনী আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন ঘটেছে। ভোটের আগের রাতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষ থেকে অর্থ বিতরণের ভিডিও প্রমাণ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে তার পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, অন্তত ৪০টির বেশি কেন্দ্রে এজেন্টদের স্বাক্ষর ছাড়াই ফলাফল শিট প্রস্তুত করা হয়েছে এবং কোথাও কোথাও ভোট গণনার আগেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই সীল মারা ব্যালট বই পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগকে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার পরিপন্থী বলে আখ্যা দেন।
মোঃ আমিনুল হক দাবি করেন, ১ থেকে ২৯ নম্বর কেন্দ্র পর্যন্ত ঘোষিত মোট ভোটের সঙ্গে প্রিজাইডিং অফিসারদের দেওয়া ফলাফল এবং পোস্টাল ভোটের হিসাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গরমিল রয়েছে। সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলেও তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে তিনি মনে করেন।
এর আগে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করে তিনি এবার আরপিও-এর ৯১এ ধারার আওতায় ফলাফল স্থগিতের আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানেই নির্ধারিত হয়েছে বিজয়-পরাজয়।










Discussion about this post