শেষ হলো বিপিএলের দ্বাদশ আসর। ফাইনালের রাতে শিরোপার উল্লাসে ভাসে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, আর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে নানা গল্প তৈরি হয় খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত অর্জন ঘিরে। প্রায় ৫ কোটি টাকার প্রাইজমানি নিয়ে শেষ হওয়া এবারের বিপিএলে দলীয় সাফল্য ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, দুটোরই আলাদা মূল্য মিলেছে টাকার অঙ্কে।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের। ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানে হারিয়ে শিরোপা জয়ের সঙ্গে তারা পেয়েছে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বিপিএলে প্রথমবার অংশ নিয়েই শিরোপা জয়ের এই সাফল্য রাজশাহীর জন্য যেমন স্মরণীয়, তেমনি আর্থিকভাবেও সবচেয়ে লাভজনক।
শিরোপা হাতছাড়া হলেও খালি হাতে ফেরেনি চট্টগ্রাম রয়্যালস। নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে শুরু করা দলটি ফাইনালে উঠেই নিশ্চিত করেছে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রাইজমানি। রানার্সআপ হিসেবেই এবারের বিপিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ পেয়েছে চট্টগ্রাম।
ফাইনালের মঞ্চে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন তানজিদ হাসান। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে সেঞ্চুরি করে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে নেন এই ওপেনার। ফাইনালের ম্যাচসেরা হিসেবে তাঁর প্রাপ্তি ছিল ৫ লাখ টাকা, যা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবেই ধরা যায়।
পুরো আসরে ব্যাট হাতে সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এসেছে পারভেজ হোসেন ইমনের কাছ থেকে। সিলেট টাইটানসের এই ব্যাটসম্যান ১২ ম্যাচে ৩৯৫ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। দল ফাইনালে না উঠলেও সেরা ব্যাটার হিসেবে পারভেজ পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা।
বোলিং বিভাগে এবারের বিপিএলের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন শরীফুল ইসলাম। চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে ১২ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে তিনি ভেঙেছেন আগের রেকর্ড। সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা। এর পাশাপাশি টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে পেয়েছেন আরও ১০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে শরীফুলের প্রাপ্তি দাঁড়ায় ১৫ লাখ টাকা, যা এবারের বিপিএলে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ একক আয়।
রাজশাহীর শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখা রিপন মণ্ডল জিতেছেন উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ৮ ম্যাচে ১৭ উইকেট নেওয়া এই পেসার পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা। আর ফিল্ডিংয়ে সেরা নির্বাচিত হয়ে রংপুর রাইডার্সের লিটন দাস পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা।










Discussion about this post