দ্বাদশ বিপিএলের শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালটা উত্তেজনার বদলে একতরফা প্রদর্শনীতেই রূপ নিল। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে কোনো সুযোগ না দিয়েই ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এটি রাজশাহীর দ্বিতীয় বিপিএল শিরোপা; এর আগে ২০১৯–২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
টস জিতে চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান রাজশাহীকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান। শুরু থেকেই সিদ্ধান্তটির পূর্ণ মূল্য আদায় করে নেয় রাজশাহী। ওপেনিং জুটিতে তানজিদ হাসান তামিমের আগ্রাসন আর সাহিবজাদা ফারহানের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকে দলটি। দুজনের জুটিতে আসে ৮৩ রান। ফারহান ৩০ বলে ৩০ রান করে ফিরলেও ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে রাখেন তানজিদ। কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৪৭ রান। উইলিয়ামসন ১৫ বলে ২৪ রান করে আউট হন।
এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তানজিদকে। সাবলীল ও বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ফিফটির পর তুলে নেন ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় সেঞ্চুরি। ৬২ বলে ১০০ রানের অনবদ্য এই ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও সাতটি ছক্কা। চলতি বিপিএলে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি, আর বিপিএল ফাইনালের ইতিহাসে তৃতীয় সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে নাম লেখান তিনি। এর আগে এই কীর্তি ছিল কেবল ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবালের। শেষ দিকে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও জিমি নিশামের ছোট কিন্তু কার্যকর অবদানে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৪ রান তোলে রাজশাহী। চট্টগ্রামের পক্ষে শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম দুটি করে উইকেট নেন।
১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই ধাক্কা খায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। মাত্র ১৮ রানের মধ্যেই দুই ওপেনার ফিরে যান। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মির্জা বেগ ও জাহিদুজ্জামান, কিন্তু ধীরগতির ব্যাটিংয়ে ম্যাচ ক্রমেই হাতছাড়া হয়ে যায়। মির্জা বেগ ৩৬ বলে ৩৯ রান করলেও প্রয়োজনীয় রান রেটের চাপ সামলাতে পারেননি। আসিফ আলী ও আমির জামাল ছোট পরিসরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ইঙ্গিত দিলেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন।
রাজশাহীর বোলাররা এদিন ছিলেন দুর্দান্ত। বাঁহাতি পেসার বিনুরা ফার্নান্দো মাত্র ৩ ওভারে ৯ রান দিয়ে চারটি উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। হাসান মুরাদ নেন তিনটি উইকেট, আর জিমি নিশাম ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন সহায়তা করেন কার্যকর বোলিংয়ে। শেষ পর্যন্ত ১৭.৫ ওভারে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস।
শেষ উইকেট পতনের সঙ্গে সঙ্গেই বাউন্ডারির পাশে অপেক্ষমাণ রাজশাহীর খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তারা ছুটে আসেন মাঠে। উচ্ছ্বাস আর আনন্দে ভেসে যায় শের-ই বাংলা স্টেডিয়াম। ৬৩ রানের দাপুটে জয়ে বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের নাম লেখায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, আর তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি হয়ে থাকে ফাইনালের সবচেয়ে উজ্জ্বল গল্প।










Discussion about this post