২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণার পর আলোচনায় এসেছিল বেশ কয়েকটি নাম। তার মধ্যে একটি ছিল হাসান মাহমুদ। ঘোষিত দলে জায়গা না পেলেও এই পেসারের কণ্ঠে নেই হতাশা বা আক্ষেপের সুর। বরং নির্বাচনের বিষয়টি পাশে রেখে মাঠের পারফরম্যান্সেই নিজের জবাব দিতে ব্যস্ত তিনি।
চলতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে হাসান মাহমুদ যেন নতুন করে নিজেকে চিনিয়ে দিচ্ছেন। নোয়াখালীর এক্সপ্রেসের হয়ে একের পর এক ম্যাচে কার্যকর বোলিং করে যাচ্ছেন তিনি।
সাত ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে উইকেটশিকারীদের তালিকায় শীর্ষের কাছাকাছি অবস্থান করছেন হাসান। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা তাঁর নিয়ন্ত্রণ, যেখানে ওভারপ্রতি রান খরচ করেছেন মাত্র ৬.০৪।
রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে হাসান ছিলেন পুরোপুরি বিধ্বংসী। ২৬ রানে চার উইকেট তুলে নিয়ে একাই ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দেন তিনি। তাঁর সেই স্পেলের ওপর ভর করেই বিপিএলে নিজেদের প্রথম জয় পায় নোয়াখালী। ৯ রানের জয়টি শুধু পয়েন্ট টেবিলেই নয়, আত্মবিশ্বাসের দিক থেকেও বড় স্বস্তি এনে দেয় দলটির জন্য। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে হাসানের হাতেই।
বাংলাদেশের হয়ে সবশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি গত বছরের জুনে, পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোরে। বিপিএলে বর্তমান পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা যদি আগেই নজরে আসত, তাহলে বিশ্বকাপ দলে তাঁর সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হতো। তবে এসব ‘যদি-কিন্তু’তে নিজেকে জড়াতে চান না হাসান।
তিনি মনে করেন, পরিস্থিতি যেমন আছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকা উচিত। তার দায়িত্ব শুধু ভালো বোলিং করা, সেটাই করে যেতে চান তিনি। ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে, সে সিদ্ধান্ত নির্বাচকদের, এমন ভাবনাতেই স্থির থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই পেসার।
টানা ছয় ম্যাচ হারার পর নোয়াখালীর জন্য এই জয় ছিল অনেক প্রতীক্ষিত। দর্শকদের সমর্থন নিয়েও কথা বলেছেন হাসান মাহমুদ। শুরু থেকেই মাঠে এসে দর্শকেরা দলকে যেভাবে উৎসাহ দিচ্ছেন, তা খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি প্রেরণা বলে মনে করেন তিনি। সমর্থকদের সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতেই সামনের ম্যাচগুলোতেও জয় উপহার দিতে চান হাসান ও নোয়াখালীর এক্সপ্রেস।










Discussion about this post