নতুন বছরের শুরুতেই আইপিএলকে ঘিরে অস্বস্তিকর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত নিলাম থেকে রেকর্ড দামে কেনার মাত্র ২০ দিনের মাথায় তাকে দল থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এই সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতীয় ক্রিকেট অঙ্গনেও প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ।
২০২৬ আইপিএল সামনে রেখে বিসিসিআই প্রণীত নিলামের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মুস্তাফিজসহ সাতজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই তালিকা থেকেই কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে নেয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। তবে নিলামের কিছুদিন পরই সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
এই ঘটনাপ্রবাহে বিসিসিআইয়ের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মনে করেন কীর্তি আজাদ। বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নিলামের পুলটা কে তৈরি করেছে? তালিকাটা তো বিসিসিআইয়েরই তৈরি করা। সেখানে সাত বাংলাদেশি ক্রিকেটার ছিল। কলকাতা সেখান থেকে নিয়েছে মোস্তাফিজকে। শাহরুখ খান তো নিলামে থেকে নাম (মুস্তাফিজের নাম) ডাকেননি। তাদের (কলকাতা) বোলিং লাইনআপ কম শক্তিশালী ছিল বলেই মুস্তাফিজকে উঠিয়েছে। আইপিএলে ৯০ ম্যাচে ৯৬ উইকেট (৬০ ম্যাচে ৬৫ উইকেট) ৮.১৩ ইকোনমি; সবই পড়েছি আমি। আমার তো মাথায় আসছে না তারা কী করল।’
সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। এই প্রেক্ষাপটে মুস্তাফিজকে দলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক ভারতীয় সমর্থক। শেষ পর্যন্ত এই চাপেই তাকে ছাড়তে বাধ্য হয় দলটি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ-ভারত রাজনৈতিক সম্পর্ক যখন শীতল পর্যায়ে, তখন শুরুতেই মুস্তাফিজকে নিলামের তালিকায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন কীর্তি আজাদ। পিটিআইকে তিনি বলেন, ‘প্রথম কথা, বাংলাদেশের সঙ্গে যেহেতু সম্পর্ক ভালো না, তাহলে তার নাম কেন দেওয়া হলো (নিলামের তালিকায়)? নিলাম থেকে একবার যখন তোলা হলো, তারাই (বিসিসিআই) বাদ দিত। কলকাতা কেন তাকে বাদ দিল? বাদ দিয়ে আপনিই বলছেন, তাকে (মুস্তাফিজ) বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নেন। আজব ব্যাপার।’
মুস্তাফিজ ইস্যু ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কীর্তি আজাদ সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট রাজনীতির উদাহরণও টানেন। তিনি বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর হলো। সেখানে (এশিয়া কাপে) পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভারত হাত মেলায়নি। সেখানেও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অনুরাগ ঠাকুর ও জয় শাহ দুবাইয়ে শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে বসে খেলা দেখেছেন, যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলছিল। এই শহীদ আফ্রিদি যখনই সুযোগ পান, কাশ্মীর-কাশ্মীরি ও ভারতকে নিয়ে আগুন ঢেলে দেন। তাঁর সঙ্গে বসে খেলা দেখাটা এখন তাহলে সঠিক! এটা তো হতে পারে না।’
এই ঘটনার রেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসন পর্যন্ত গড়িয়েছে। নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে ভারত থেকে টুর্নামেন্টের ভেন্যু সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আইসিসিকে ই-মেইল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।










Discussion about this post