বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) মানেই মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি নানা বিতর্কের আলোচনা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা। আগের প্রায় সব আসরেই কোনো না কোনো দল সময়মতো পারিশ্রমিক না দেওয়ার অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে আসন্ন দ্বাদশ বিপিএলের আগে সেই চিরচেনা শঙ্কা কিছুটা হলেও কাটতে শুরু করেছে।
আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্দা উঠতে যাওয়া বিপিএলের আগে রংপুর রাইডার্স যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দলটি ক্রিকেটারদের ৫০ শতাংশ পারিশ্রমিক পরিশোধ করেছে। ২৪ ডিসেম্বর বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুশীলনের সময় রংপুরের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের হাতে অর্ধেক পারিশ্রমিকের চেক তুলে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ।
বিপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক তিন কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় প্রথম কিস্তিতে ২৫ শতাংশ, দলের শেষ লিগ ম্যাচের আগে দ্বিতীয় কিস্তিতে ৫০ শতাংশ এবং টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বাকি ২৫ শতাংশ পরিশোধ করার বিধান রয়েছে।
নিয়মের বাধ্যবাধকতার বাইরেও ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করতে প্রথম ধাপেই অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করেছে রংপুর, যা পারিশ্রমিক ইস্যুতে তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ দিচ্ছে।
এদিকে বিপিএলকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন ভেন্যুতে চলছে দলগুলোর প্রস্তুতি। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অনুশীলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিকতা। পরবর্তীতে অনুশীলনে নামে রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস। সিলেটে প্রস্তুতি সেরেছে স্বাগতিক সিলেট টাইটান্স এবং ২৩ ডিসেম্বর অনুশীলনে নেমেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
মাঠের বাইরের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও কিছুটা এগিয়ে রয়েছে কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। নিয়ম অনুযায়ী রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ইতোমধ্যে নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিম, রিপন মণ্ডল ও মুশফিকুর রহিমদের ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পরিশোধ করেছে। অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত মিলছে, যদিও সবার অর্থ পরিশোধের অবস্থা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
রংপুর রাইডার্সের পক্ষ থেকে লিটন দাস, নুরুল হাসান সোহান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাহিদ রানা, তাওহীদ হৃদয়, রাকিবুল হাসান, আলিস আল ইসলাম, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ও ইফতেখার হোসেন ইফতিদের হাতে পারিশ্রমিকের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে।










Discussion about this post