পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত এক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব–১৯ দল। ৩৯ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
কক্সবাজারে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই বড় ধাক্কা খায়। কোনো বল খেলার আগেই রান–আউট হয়ে ডায়মন্ড ডাকের শিকার হন ওপেনার রাভাইল ফারহান। দ্রুত রান তুললেও ইমান নাসির সঙ্গী পাননি; কোমাল খান শূন্য রানে ফিরলে ২৪ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারায় অতিথিরা। ইমান ১৬ বলে ২৩ রান করেন, কিন্তু তার পরের ব্যাটার জুফিশান আয়াজ ৩৩ বলে মাত্র ১৪ রান যোগ করায় রানের গতি আরও মন্থর হয়ে পড়ে।
৩১ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান পুরোপুরি চাপে পড়ে। শেষ দিকে মেমুনা খালিদ ২৫ বলে ১৯ এবং মাহনুর জেব ১৫ বলে ১২ রান করে দলকে কিছুটা উদ্ধার করলেও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আক্রমণ তাদের বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি। নির্ধারিত ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ৮৬ রান। বাংলাদেশের হয়ে হাবিবা ইসলাম পিংকি ও অতশী মজুমদার দুটি করে উইকেট নেন এবং লাইন-লেন্থে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন পুরো ইনিংসজুড়ে।
৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটাও সুখকর ছিল না। ইনিংসের শুরুতেই ৮ রানে দুই ওপেনার ফিরে গেলে দলের ওপর চাপ বাড়ে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন জান্নাত ইমান্তা ও সাদিয়া ইসলাম। দু’জনই দেখেশুনে খেললেও প্রতি সুযোগেই আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সাদিয়া ২৮ বলে ৩৫ রান করে আউট হওয়ার আগে তিনটি চার ও তিনটি ছক্কায় ইনিংস সাজিয়ে দলকে জয়ের ভিত গড়ে দেন। ইমান্তা অপরাজিত ৩০ রানে ম্যাচ শেষ করেন; তিনি ২৫ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারেন।
মায়মুনা ১৫ বলে ৪ রান করায় শেষ দিকে কিছুটা সময় নিলেও বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। শেষ পর্যন্ত ৩৯ বল হাতে রেখে সাত উইকেটের আরামদায়ক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব–১৯ দল। এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক চ্যাম্পিয়নরা।










Discussion about this post