চট্টগ্রামের ফ্ল্যাট উইকেটে রান তাড়া করা অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু মিরপুরের কালো মাটির মতোই চট্টগ্রামেও দেখা গেল বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার একই চিত্র। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল ১৪৯ রানে। ম্যাচ শেষে দলের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে এসে ব্যাটারদের দায়িত্বহীনতা নিয়ে সোজাসাপটা কথা বলেন তরুণ পেসার তানজিম হাসান সাকিব।
‘এই উইকেটে ১৬৬ রান তাড়া করা উচিত ছিল। বিপিএল খেলতে এসে চট্টগ্রামে আমরা ১৮০–২০০ রান তাড়া করে জিতেছি। এখানে সব সময় ব্যাটিং সহায়ক উইকেট থাকে। তাই ১৬০–এর মতো লক্ষ্য তাড়া করে জেতা সম্ভব ছিল। ব্যাটারদেরও দায়িত্ব নেওয়া দরকার ছিল।’
তার কথাতেই স্পষ্ট, বোলাররা নিজেদের সীমিত দায়িত্ব পালন করলেও ব্যাটারদের ব্যর্থতাই বড় কারণ। কারণ, ম্যাচের প্রথম ১২ ওভারেই ৬ উইকেট হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। পাওয়ারপ্লেতে ৪ উইকেট হারিয়ে দল পড়ে চাপে।
সাকিব বলেন, ‘পাওয়ারপ্লেতে ৪ উইকেট হারিয়ে অনেক পিছিয়ে গিয়েছিলাম। যদি সেখানে ২ উইকেট পড়ত আর একজন ব্যাটার থেকে যেত, তাহলে জেতা সম্ভব ছিল।’
শেষের দিকে অবশ্য সাকিব নিজেই আশা জাগান। নাসুম আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ২৩ বলে ৪০ রানের জুটি গড়ে ম্যাচটাকে ফেরানোর চেষ্টা করেন তিনি। ২৭ বলে ৩৩ রান করা সাকিব ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত নিতে পারেননি-সেখানেই রয়ে গেছে তার আক্ষেপ, শেষ করতে পারলে খুব ভালো লাগত। নাসুম ভাই দুর্দান্ত সাপোর্ট দিচ্ছিলেন, মনে হচ্ছিল একজন ব্যাটারের সঙ্গে ব্যাট করছি। যদি আরেকটু গভীরে নিতে পারতাম, ফল অন্যরকম হতে পারত।’
শেষ দুই ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩০ রান। মাঠে তখন শিশির পড়ায় বল সহজে ব্যাটে আসছিল-এমন অবস্থায় একজন সেট ব্যাটার থাকলে জয় সম্ভব ছিল বলেই মনে করেন তানজিম, ‘শেষ দিকে ব্যাটে বল ভালো আসছিল। একজন সেট ব্যাটার থাকলে ২ ওভারে ৩০ রান করা কঠিন ছিল না। ব্যাটার থাকলে এই খেলা হাতের নাগালেই ছিল।’
তবে নিজের শেষ ওভারে বাজে বোলিং নিয়েও আত্মসমালোচনা করতে ভোলেননি তিনি। রভম্যান পাওয়েলের হাতে তিন ছক্কা খেয়ে শেষ ওভারে ২২ রান দেন সাকিব। এ বিষয়ে বলেন, “শেষ ওভারটা খারাপ গিয়েছিল। এক্সিকিউশনে ভুল ছিল, এটা নিয়ে অবশ্যই কাজ করব।’
নিজের ব্যাটিং উন্নতি নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন তানজিম, ‘(সিনিয়র সহকারী কোচ) সালাউদ্দিন স্যার অনেক আত্মবিশ্বাস দেন। উনি অনুশীলনে অনেক ব্যাটিং করান। সবাই বিশ্বাস দেয়—আমি রান করতে পারব। সেই বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে এখন পিছিয়ে বাংলাদেশ। সিরিজে ফেরার আশায় আগামীকাল (২৯ অক্টোবর) একই মাঠে নামবে লিটন দাসের দল।










Discussion about this post