চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দিনের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষটা? সেটি পুরোপুরি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। একসময় মনে হচ্ছিল ১৪০ রানও পাবে না অতিথিরা। কিন্তু শেষ চার ওভারে চিত্রটাই বদলে গেল। রভম্যান পাওয়েল আর শাই হোপের ব্যাটে ঝড় তুলে ২০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ১৬৫ রান তুলল ওয়েস্ট ইন্ডিজ-যা যে কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচে লড়াইয়ের মতো সংগ্রহ। শেষ ৩ ওভারে উইন্ডিজ নিল ৫১ রান।
টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক শাই হোপ। শুরুটা ছিল তাদের পক্ষে ধীর আর স্থির। আলিক আথানাজে আর ব্রেন্ডন কিং ওপেনিংয়ে দেখেশুনে খেলেন। পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে ওঠে মাত্র ৩৫ রান। স্পিনার নাসুম আহমেদ শুরুর দিকেই দারুণ নিয়ন্ত্রণে রাখেন ব্যাটারদের, যেন ইনিংসের ছন্দটাই কেড়ে নিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সাফল্য এনে দেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। তার গুগলিতে বিভ্রান্ত হয়ে ২৭ বলে ৩৪ রান করা আথানাজে ক্যাচ তুলে দেন, ভাঙে ৫৯ রানের উদ্বোধনী জুটি। এই ব্রেকথ্রু যেন টাইগারদের আরও উজ্জীবিত করে তোলে।
তবে তার পরের মুহূর্তেই মোড় নেয় খেলা। ৩৬ বলে ৩৩ রান করা ব্রেন্ডন কিংকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনের সূচনা করেন তাসকিন আহমেদ। সেই ডেলিভারির পরের বলেই গোল্ডেন ডাক মারেন শেরফান রাদারফোর্ড। দুই বলে দুই উইকেট, হঠাৎই গ্যালারিতে জেগে ওঠে চট্টগ্রামের দর্শকরা-মনে হচ্ছিল, ম্যাচের মোড় ঘুরে গেছে।
কিন্তু ক্রিকেট তো এমনই অনিশ্চিত খেলা। নতুন ব্যাটার হিসেবে নামেন রভম্যান পাওয়েল, ক্রিজে আছেন অধিনায়ক হোপ। শুরুতে ধীরস্থির থাকলেও শেষ দশ ওভারে দুজনের জুটিই পাল্টে দেয় ম্যাচের রঙ। হোপের পরিমিত ব্যাটিং আর পাওয়েলের বিস্ফোরণ-এই দুই ছন্দেই গড়ে ওঠে ইনিংসের মূল ভরসা।
শেষ ওভারে মুস্তাফিজের বিপক্ষে তিনটি ছক্কা হাঁকান পাওয়েল। স্টেডিয়ামের আলো-আঁধারিতে সেই ছক্কাগুলোর প্রতিটিই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাওয়েল ২৮ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর অধিনায়ক হোপ থাকেন ২৮ বলে ৪৬ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ নেন ২ উইকেট, রিশাদ হোসেন ১টি। নাসুম আহমেদ বল হাতে সাশ্রয়ী থাকলেও বাকিদের বোলিং ছিল অনিয়মিত, বিশেষ করে ডেথ ওভারে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৬৫ রান টি-টোয়েন্টিতে বড় নয়, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য সহজও নয়। এই উইকেট সময়ের সঙ্গে ধীর হয়ে পড়ছে, তাই প্রথম ছয় ওভারের ব্যাটিং হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসানের দায়িত্ব হবে আগ্রাসী সূচনা এনে দেওয়ার!










Discussion about this post