পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয়ে শুরুটা স্বপ্নময় ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ অভিযান। কিন্তু সেই আলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে গেছে একের পর এক হৃদয়বিদারক হারে। ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে জিততেও হেরে গেল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ২০৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শেষ ৫ ওভারে ২৭ রান প্রয়োজন ছিল, হাতে ৭ উইকেট। কিন্তু সেই অবস্থান থেকেও ৭ রানে হারতে হলো বাংলাদেশকে।
হারের পর হতাশ জ্যোতি স্বীকার করেছেন-শেষ মুহূর্তের চাপ সামলাতে না পারার ব্যর্থতাই ডোবাচ্ছে দলকে বারবার। ম্যাচ শেষে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেন,
‘খুব কাছাকাছি গিয়েও তিনটি ম্যাচ হেরেছি (ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে)। বিষয়টা হৃদয়বিদারক। ম্যাচটা শুরু থেকেই আমাদের হাতে ছিল। আমরা ভালো ব্যাটিং করছিলাম, কিন্তু সুপ্তা ক্র্যাম্পে মাঠ ছাড়ার পর মোমেন্টাম হারিয়েছি।’
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা-৪৪ রানের মধ্যেই তিন ব্যাটার ফিরে যান। তখন দলের ভরসা হয়ে ওঠেন জ্যোতি ও শারমিন আক্তার সুপ্তা। এই দুজনের ৮২ রানের জুটি ম্যাচটাকে বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ৬৪ রানে ব্যাট করা সুপ্তাকে পায়ের ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়। সেখান থেকেই বদলে যায় ম্যাচের গতি।
সুপ্তা ফিরে গেলেও জ্যোতি দৃঢ়ভাবে লড়ে যান। পরে স্বর্ণা আক্তারের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়েও শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ ওভারে হাতে ছিল ৫ উইকেট, দরকার ছিল ৯ রান। অথচ লঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর করা সেই ওভার থেকে বাংলাদেশ তুলতে পেরেছে মাত্র ১ রান, হারিয়েছে ৪ উইকেট। শেষ পর্যন্ত ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলের হারের সাক্ষী হতে হয়েছে অধিনায়ককেই।
হারের পর জ্যোতি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক সময় পরিকল্পনা থেকে সরে যাচ্ছি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারাচ্ছি। জেতা ম্যাচগুলোই হেরে যাচ্ছি, ভুলটা এখানেই আমাদের।’
এই ম্যাচের আগেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্রুত ৫ উইকেট তুলে নিয়ে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও ক্যাচ মিসের কারণে জয় হাতছাড়া হয়েছে। একই চিত্র দেখা গেল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেও-জেতার মতো অবস্থায় থেকেও চাপ সামলাতে না পারা, মিসফিল্ড, আর শেষদিকে ব্যাটিং ধস।
বিশ্বকাপে এখন কেবল ভারতের বিপক্ষে এক ম্যাচ বাকি নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের। কিন্তু সেটি কেবলই নিয়মরক্ষার লড়াই। ছয় ম্যাচে পাঁচ হারে বাংলাদেশের পয়েন্ট মাত্র দুই।










Discussion about this post