নাভি মুম্বাইয়ের ড. ডিওয়াই পাতিল স্পোর্টস একাডেমি মাঠে আজ বাংলাদেশ নারী দলের সামনে ছিল স্পষ্ট এক সমীকরণ-এই ম্যাচ জিতলেই বেঁচে থাকবে সেমিফাইনালের আশা। সেই লক্ষ্যেই টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিগার সুলতানার দল, আর বল হাতে সেটি যে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল, সেটি প্রমাণ করেছেন মারুফা আক্তার ও স্বর্ণা আক্তাররা।
ইনিংসের প্রথম বলেই শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলে দেন মারুফা। তার গতিময় ডেলিভারিতে লেগ বিফোর হয়ে ফেরেন ওপেনার ভিষমি গুনারত্নে-একটি বিশ্বকাপ ম্যাচের জন্য এর চেয়ে স্বপ্নের সূচনা আর হয় না। কিন্তু অভিজ্ঞ চামারি আতাপাত্তু ও হাসিনি পেরেরা দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ রানের জুটি গড়ে দলকে আবার খেলায় ফেরান। ৪৩ বলে ৪৬ রান করে লঙ্কান অধিনায়ককে ফেরান রাবেয়া খান, আর সেখান থেকেই ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় বাংলাদেশ।
হাসিনি পেরেরা লড়াই চালিয়ে যান এক প্রান্তে। তার ব্যাটে আসে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৮৫ রান (৯৯ বলে), যা শ্রীলঙ্কাকে এনে দেয় দুইশর কাছাকাছি সংগ্রহ। কিন্তু তাঁর বিদায়ের পর শুরু হয় লঙ্কান ব্যাটিংয়ের ধস। শেষ ২৮ রানের মধ্যে ৬ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন তরুণ অলরাউন্ডার স্বর্ণা আক্তার। বল হাতে তিনি দেখিয়েছেন শীতল মস্তিষ্ক আর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ-মাত্র ২৭ রান খরচায় তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট। তাঁর সঙ্গে রাবেয়া খান নিয়েছেন ২টি উইকেট, আর মারুফা আক্তার, নিশিতা আক্তার নিশি ও নাহিদা আক্তার প্রত্যেকে নিয়েছেন ১টি করে।
শেষ পর্যন্ত ৪৮.৪ ওভারে ২০২ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। দলের পক্ষে পেরেরা ছাড়া কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি-নিলাক্ষী সিলভা ৩৮ বলে ৩৭ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন মাত্র।
এখন বাংলাদেশ নারী দলের সামনে চ্যালেঞ্জ একটাই-এই ২০৩ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকা। প্রথম ইনিংসে যে আত্মবিশ্বাস ও নিয়ন্ত্রণ দেখা গেছে, সেটি যদি ব্যাটিংয়েও ধরে রাখতে পারে নিগার সুলতানারা, তবে বিশ্বকাপে আরেকটি ইতিহাস রচনার সুযোগ হাতছাড়া হবে না।










Discussion about this post