পার্থের আকাশ ছিল ভারী, বাতাসে বৃষ্টির গন্ধ। আর সেই আর্দ্র বিকেলে ফিরেছিলেন এক মানুষ-যার নাম ভারতীয় ক্রিকেটের এক যুগের প্রতীক, বিরাট কোহলি। সাত মাস পর দেশের জার্সি গায়ে উঠতেই যেন সময় থেমে গিয়েছিল, কিন্তু ব্যাটের শব্দটা আর শোনা গেল না। আট বল, একটিও রান নয়-এই নীরবতাই হয়তো সবচেয়ে জোরালো প্রতিধ্বনি।
মিচেল স্টার্কের বলটা ছিল স্টাম্পের অনেক বাইরে, কিন্তু কোহলি এগিয়ে এলেন, শটটা খেললেন শরীরের দূর থেকে-যেন নিজের পুরনো ছন্দ খুঁজছিলেন। পয়েন্টে থাকা কুপার কনোলি ঝাঁপিয়ে পড়লেন, আর বলটি তার দুই হাতে ধরা পড়ল। মুহূর্তেই স্তব্ধ পার্থ। কোহলি ধীরে হাঁটলেন ফিরে, মাথা নিচু করে। কোনো প্রতিক্রিয়া নয়, কোনো অভিব্যক্তি নয়-শুধু নীরবতা।
সাত মাসের বিরতির পর যে ইনিংসটা নতুন শুরু হতে পারত, সেটি পরিণত হলো এক তিক্ত স্মৃতিতে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম শূন্য, যার প্রতিটি সংখ্যা যেন এক একটি প্রশ্ন। বয়স, ফর্ম, প্রেরণা-সবকিছু মিশে যাচ্ছে এক অদৃশ্য রেখায়। ভারতের হয়ে তিনি এখন কেবল ওয়ানডের ক্রিকেটার, এক ফরম্যাটের বেঁচে থাকা কিংবদন্তি।
ভারতের এই ম্যাচের শুরুটাও যেন প্রতীকী। নতুন অধ্যায়, নতুন অধিনায়ক শুভমান গিল, কিন্তু পুরনো দুই নায়ক-রোহিত ও কোহলি দুজনই ব্যর্থ। ২৫ রানে ৩ উইকেট, স্টেডিয়ামের বড় স্কোরবোর্ডে সংখ্যার চেয়ে বড় হয়ে উঠল সেই নামগুলো- “R. Sharma – 8, V. Kohli – 0, S. Gill – 10।” ভারতের নতুন সূচনার পাতায় তাই রঙটা কিছুটা বিবর্ণই।
কোহলির ব্যর্থতা যদিও শুধুই পরিসংখ্যান নয়। এটি এক সময়ের সঙ্গে লড়াই। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১৩ বছরে প্রথমবার শূন্য পাওয়া, সেই সংখ্যাটিই যেন বলছে-সব রেকর্ডই একদিন থামে। ৩০টি ওয়ানডেতে ১৩২৭ রানের যে গর্বিত ইতিহাস, সেটিও থেমে গেল এক নিঃশব্দ ইনিংসে।
ম্যাচের সময় আকাশে আবার নেমেছিল বৃষ্টি, খেলা থেমে গিয়েছিল। হয়তো সেটিও এক প্রতীক-কখনও কখনও প্রকৃতিও যেন থামিয়ে দেয় সময়কে, এক ক্ষণিকের নীরবতা তৈরি করে। কোহলির এই ইনিংসও তেমনই; ছোট্ট, নীরব, কিন্তু গভীর।
রোহিত শর্মা যেমন অধিনায়কত্ব হারিয়ে ফিরেছেন, তেমনি কোহলি ফিরেছেন ব্যাটের ভেতরের শূন্য নিয়ে। দুজনের সামনে এখন একটিমাত্র দিগন্ত-আগামী বিশ্বকাপ। সেখানেই হয়তো তাদের শেষ বড় লড়াই, অথবা শেষ হাসি।
পার্থের সেই সন্ধ্যায় দর্শকেরা যখন বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ছাতা খুলছিল, স্ক্রিনে তখন রিপ্লে হচ্ছিল কোহলির আউট হওয়ার দৃশ্য। প্রতিবারই মনে হচ্ছিল, এ কি কেবল একটি ক্যাচ, নাকি সময়ের হাতে ধরা পড়া এক অধ্যায়?










Discussion about this post