ম্যাচের আগে আলোচনা ছিল ভিন্নরকম! মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট, সবুজ ঘাসে মোড়া পিচে বোলারদের দাপট দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু দুই দিনের খেলায় সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে ব্যাটাররাই দখল নিয়েছেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়লেও দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তানও দেখিয়েছে শক্ত প্রতিরোধ। আজ দিন শেষে সফরকারীরা ১ উইকেটে ১৭৯ রান তুলে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান বেশ মজবুত করেছে।
প্রথম দিনের ৩০১/৪ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। বড় সংগ্রহের আশা থাকলেও দিনের শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের ঝড়ো ব্যাটিং ইনিংসকে নতুন গতি দেয়। ১৯ বলে ২৮ রানের কার্যকর ইনিংসে ছিল একটি ছক্কা ও তিনটি চার। নাহিদ রানাকে সঙ্গে নিয়ে শেষ উইকেটে ২৯ রান যোগ করে দলকে চারশ রানের গণ্ডি পার করান তিনি।
বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে বড় অবদান আসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে। দারুণ নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে তিনি করেন ১০১ রান। মুমিনুল হক ৯১ রান করে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও খেলেন ৭১ রানের ইনিংস, যদিও নিজের জন্মদিনে সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া হয় তার। বিরতির পর প্রথম বলেই শাহিন শাহ আফ্রিদির দুর্দান্ত ডেলিভারিতে স্টাম্প হারান এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
লিটন দাস খুব বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও ব্যক্তিগত অর্জনে দিনটি স্মরণীয় করে রেখেছেন। ৩৩ রান করার পথে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। ৩১ টেস্টে লিটনের সংগ্রহ এখন ২০০৯ রান। চারটি সেঞ্চুরিও রয়েছে তার নামের পাশে। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন মুশফিকুর রহিম।
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। শাহিন আফ্রিদি নেন ৩ উইকেট। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১১৭.১ ওভারে।
ব্যাট হাতে জবাব দিতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই ছিল আত্মবিশ্বাসী। ওপেনার আজান আওয়াইস ও ইমাম উল হক বাংলাদেশের বোলারদের খুব একটা সুযোগ দেননি। দুজন মিলে গড়েন ১০৬ রানের উদ্বোধনী জুটি। ইমাম ৪৫ রান করে আউট হলেও অন্যপ্রান্তে দৃঢ় ছিলেন আওয়াইস। দিনের খেলা শেষে ৮৫ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। আব্দুল্লাহ ফজলও ৩৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে গেছেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১১৭.১ ওভারে ৪১৩/১০ ( নাজমুল ১০১, মুমিনুল ৯১, মুশফিক ৭১, লিটন ৩৩, তাসকিন ২৮, তাইজুল ১৭, সাদমান ১৩ ; আব্বাস ৫/৯২, আফ্রিদি ৩/১১৩, হাসান ১/৭৫, নোমান ১/৮০)।
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৪৬ ওভারে ১৭৯/১ (আজান ৮৫*, ইমাম ৪৫, ফাজাল ৩৭*; তাসকিন ৮-০-৪০-০, ইবাদত ৮-১-৩৮-০, নাহিদ ৯-১-৪৭-০, মিরাজ ১৬-২-৩৭-১, তাইজুল ৫-০-১২-০)









Discussion about this post