পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৪১৩ রানের সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের শেষ ভাগে দ্রুত উইকেট হারানোর কারণে আরও বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা হাতছাড়া হয়েছে স্বাগতিকদের। প্রথম দিন ৪ উইকেটে ৩০১ রান তোলার পর আজ ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাকি ৬ উইকেটে মাত্র ১১২ রান যোগ করতে পারে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের শুরুতে বড় আশা ছিল মুশফিকুর রহিমকে ঘিরে। নিজের ৩৯তম জন্মদিনে সেঞ্চুরির দিকেই এগোচ্ছিলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। আগের দিন ৪৮ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিক ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি পূর্ণ করলেও শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি তার। মধ্যাহ্ন বিরতির পর দিনের প্রথম বলেই শাহিন শাহ আফ্রিদির ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ১৭৯ বলে ৮টি চারে ৭১ রান করেন বাংলাদেশের ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’।
মুশফিকের বিদায়ের পর বাংলাদেশের চারশ ছোঁয়ার স্বপ্নও কিছুটা ফিকে হয়ে গিয়েছিল। তবে শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের ঝোড়ো ব্যাটিং দলকে এনে দেয় লড়াকু সংগ্রহ। মাত্র ১৯ বলে ১ ছক্কা ও ৩ চারে ২৮ রান করেন এই পেসার। শেষ উইকেটে নাহিদ রানাকে নিয়ে ৩৯ বলে ২৯ রানের জুটি গড়ে দলের স্কোর চারশ পার করেন তিনি। নাহিদ ২৩ বলে ৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ১১৭.১ ওভারে ৪১৩ রানে। টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। সবুজ উইকেট বিবেচনায় রানটি বড় হলেও শেষ দিকের ব্যাটিং ধস আক্ষেপ বাড়িয়েছে স্বাগতিকদের। দলীয় ৩৭৮ রানে মাত্র ২৪ বলের মধ্যে তাইজুল ইসলাম, মুশফিক ও ইবাদত হোসেনকে হারায় বাংলাদেশ।
প্রথম দিনের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। শান্ত খেলেছেন ১০১ রানের দারুণ ইনিংস। আরেকটি সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে ৯১ রানে থামেন মুমিনুল। লিটন দাস করেন ৩৩ রান।
পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। অভিজ্ঞ এই পেসার ৩৪ ওভারে ৯২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার ষষ্ঠ পাঁচ উইকেট শিকার। শাহিন শাহ আফ্রিদি নেন ৩ উইকেট।
জন্মদিনে সেঞ্চুরি না পেলেও মুশফিকের ইনিংস ঘিরে আলোচনায় এসেছে টেস্ট ইতিহাসের কয়েকটি স্মরণীয় ঘটনা। ক্রিকেট ইতিহাসে জন্মদিনে সেঞ্চুরির নজির আছে বেশ কয়েকটি। ইংল্যান্ডের রেগ সিম্পসন, পিটার রিচার্ডসন, দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম পোলক ও লি আরভিন, ইংল্যান্ডের ক্রিস লুইস এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের রামনরেশ সারওয়ান জন্মদিনে টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন। এমনকি জন্মদিনে ডাবল সেঞ্চুরির ঘটনাও আছে। ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে জন্মদিনে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার জেসন গিলেস্পি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস- ১১৭.১ ওভারে ৪১৩। নাজমুল হোসেন শান্ত ১০১, মুমিনুল হক ৯১, মুশফিকুর রহিম ৭১, লিটন দাস ৩৩, তাসকিন আহমেদ ২৮। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস ৫/৯২ এবং শাহিন শাহ আফ্রিদি ৩/১১৩।









Discussion about this post