ক্রিকেটের মতো জীবনের পথচলাও ভরা অনিশ্চয়তায়। কখনো আনন্দ, কখনো বেদনা-একটি মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু। সেই বাস্তবতাই যেন নির্মমভাবে সামনে এনে দিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) একটি দিন। বিপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগেই সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকিকে হারিয়ে গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয় ঢাকা ক্যাপিটালস।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন জাকি। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। ডাগআউটে বসে শিষ্যদের উৎসাহ দেওয়ার যে মানুষটির কথা ছিল, সেই মানুষটিকেই হারিয়ে মাঠে নামতে হয় দলকে।
শোককে সঙ্গী করেই রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেন ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। শুরু থেকেই ঢাকার বোলারদের শৃঙ্খলাবদ্ধ আক্রমণে ভেঙে পড়ে রাজশাহীর ব্যাটিং লাইনআপ। ইনিংসের প্রথম বলেই কোনো রান না করেই ফেরেন সাহিবজাদা ফারহান। এরপর তানজিদ হাসান তামিম, ইয়াসির আলী ও আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান নাজমুল হোসেন শান্তকে ফিরিয়ে রাজশাহীর ওপর চাপ বাড়ান ইমাদ ওয়াসিম ও নাসির হোসেন।
শান্ত ২৮ বলে ৩৭ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে ২৩ বলে ২৪ রান। শেষদিকে মোহাম্মদ নাওয়াজের ২৬ বলে অপরাজিত ২৬ রানে ভর করে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান তোলে রাজশাহী।
সহজ লক্ষ্য হলেও জবাবে শুরুটা ভালো হয়নি ঢাকার। ওপেনার সাইফ হাসান ১ রান করে ফিরে যান। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। উসমান খান, অধিনায়ক মিঠুন ও নাসির হোসাইন দ্রুত ফিরে গেলে চাপ বাড়তে থাকে। মামুন ৩৯ বলে ৪৫ রান করে আউট হলে ম্যাচ হেলে পড়ে রাজশাহীর দিকেই—এমনটাই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু তখনই দৃঢ়তা দেখান সাব্বির রহমান ও শামীম হোসেন পাটোয়ারী। দুজনের শান্ত অথচ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুত বদলে যায় পরিস্থিতি। সাব্বির ১০ বলে অপরাজিত ২১ রান করেন, শামীম ১৩ বলে অপরাজিত ১৭ রান যোগ করেন। তাদের ব্যাটেই ১৮.৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে ঢাকা ক্যাপিটালস।
এই জয় মাঠের স্কোরবোর্ডে যেমন গুরুত্ব বহন করে, আবেগের দিক থেকেও তেমনি গভীর অর্থবহ। যিনি এই জয় দেখার কথা ছিল, যিনি শিষ্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার কথা ছিল, তিনি এখন অনেক দূরে। তবুও তাঁর স্মৃতিকে সঙ্গী করেই বিপিএলে জয় দিয়ে শুরু করল ঢাকা ক্যাপিটালস, প্রমাণ করল শোকও কখনো কখনো লড়াইয়ের শক্তি হয়ে ওঠে।










Discussion about this post