বাঁচা-মরার লড়াই, শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনা, আর শেষ বলে জয়-সব মিলে এক সিনেমার চিত্রনাট্য যেন। আর সেই গল্পের নায়ক হয়ে আজ এশিয়া কাপে আফগানিস্তানকে ৮ রানে হারিয়ে সুপার ফোরে খেলার স্বপ্ন জিইয়ে রাখল বাংলাদেশ।
আবুধাবির গরমে উত্তেজনা ছড়াল মুস্তাফিজুর রহমানের ঠান্ডা মাথার শেষ ওভার। শেষ বলে দরকার ছিল ৯ রান, উইকেটে ছিলেন আফগানিস্তানের শেষ ভরসা নুর আহমেদ। কিন্তু কাটারের ফাঁদে পড়ে ক্যাচ তুলে দেন নুরুল হাসানের হাতে। উল্লাসে ফেটে পড়ে লাল-সবুজের দল।
টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ছিল আক্রমণাত্মক, বিশেষ করে তানজিদ তামিম ব্যাটে। সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে ৩১ বলে ৫২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন অভিজ্ঞ এই ওপেনার। তবে সঙ্গীরা ছিলেন অনুজ্জ্বল। সাইফ হাসান ধীরগতির ৩০ রান করে ফিরলে চাপ বাড়ে।
লিটন, হৃদয়, শামীম কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষদিকে নুরুল হাসান ও জাকের আলী কিছুটা সমর্থন দিলেও বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৫৪ রানে। প্রথম ১০ ওভারে ৮৭ রান তোলা দলটি পরের ১০ ওভারে তুলেছে মাত্র ৬৭।
আফগানিস্তানের জবাবে শুরুতেই বাজিমাত করেন নাসুম আহমেদ। প্রথম ওভারেই উইকেট মেডেন,টি-টোয়েন্টিতে এক বিরল দৃশ্য! এরপর রিশাদ হোসেন ও মুস্তাফিজ যোগ দেন উইকেট শিকারে। এক সময় মনে হচ্ছিল, আফগানিস্তান বুঝি হেসেখেলেই হার মানবে।
কিন্তু না, লড়াই শুরু হয় শেষের দিকে। ওমরজাই ১৬ বলে ৩০ ও রশিদ খান ১১ বলে ২০ রান করে ম্যাচে ফেরান আফগানিস্তানকে। দর্শকরা তখন দুলছিলেন দোলনায়-কখনো মনে হচ্ছিল জয় বাংলাদেশের, আবার কখনো আফগানদের।
শেষ ওভারে দরকার ছিল ১১ রান। মুস্তাফিজ বল হাতে। চাপ, উত্তেজনা, টেনশন-সব ছিল চোখে মুখে। তবে কাটার মাস্টার নিজের কাজ করে দিলেন ঠান্ডা মাথায়। শেষ বলে যখন প্রয়োজন ৬ রান, নুর আহমেদ বড় শট খেলার চেষ্টায় তুলে দেন সহজ ক্যাচ।
উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ শিবির। মাঠে-মাঠে, ঘরে-ঘরে শুরু হয় উদযাপন। ৮ রানের জয় এনে দিয়ে সুপার ফোরের দরজা খোলার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখল লিটন দাসের দল।
এখন টাইগার ভক্তদের চোখ আগামীকালের ম্যাচে। যদি শ্রীলঙ্কা হারায় আফগানিস্তানকে, তাহলে বাংলাদেশ সরাসরি চলে যাবে সুপার ফোরে। আর যদি আফগানিস্তান জিতে যায়, তখন দেখার বিষয় হবে নেট রান রেট-যেখানে বাংলাদেশ একটু পিছিয়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৪/৫ (তানজিদ ৫২, সাইফ ৩০, হৃদয় ২৬, জাকের ১২*, নুরুল ১২*, শামীম ১১; নুর ২/২৩, রশিদ ২/২৬)।
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৬ (গুরবাজ ৩৫, ওমরজাই ৩০, রশিদ ২০, নাইব ১৬; মুস্তাফিজ ৩/২৮, নাসুম ২/১১, রশিদ ২/১৮, তাসকিন ২/৩৪)।
ফল: বাংলাদেশ ৮ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: নাসুম আহমেদ।










Discussion about this post