জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে বাড়তি গতি আনতে নতুন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক রূপ মিলল আজ। ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ ২০২৬’ নামে তিন দলের এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন দেশের সেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটাররা।
খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ও প্রাইজমানি মিলিয়ে যেখানে মোট আর্থিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা, সেখানে বিসিবি এটিকে দেখছে শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে।
সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না থাকায় জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সামনে ছিল খানিকটা ব্যস্ততাহীন সময়। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই মূলত এই প্রতিযোগিতার আয়োজন। ফেব্রুয়ারির শুরুতেই মাঠে গড়াতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে তিনটি দলে ভাগ হয়ে খেলবেন ক্রিকেটাররা। ধূমকেতু একাদশের নেতৃত্বে থাকছেন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। দুর্বার একাদশের অধিনায়ক করা হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তকে, আর দুরন্ত একাদশের নেতৃত্ব দেবেন সাবেক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী।
কোচিং প্যানেলেও রাখা হয়েছে অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ। ধূমকেতু একাদশের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, তার সহকারী কোচ থাকছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। দুর্বার একাদশের কোচিং প্যানেলে প্রধান কোচ মিজানুর রহমান বাবুল ও সহকারী কোচ তুষার ইমরান। দুরন্ত একাদশের দায়িত্বে থাকছেন হান্নান সরকার, সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করবেন রাজিন সালেহ আলম। বিসিবির দৃষ্টিতে এই কোচিং সমন্বয় তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স আরও সমৃদ্ধ করবে।
টুর্নামেন্টের আরেকটি বড় আকর্ষণ ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মের সংযোজন। বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই নিয়ম প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে। বিসিবির প্রত্যাশা, এই নিয়ম ম্যাচের কৌশল, দল নির্বাচন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণে খেলোয়াড়দের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কাজে লাগবে।
৫, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো। ফাইনাল মাঠে গড়াবে ৯ ফেব্রুয়ারি। সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে মাঠে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আর সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে দিনের খেলা। ক্রিকেটের পাশাপাশি বিনোদনের এই সমন্বয় দর্শকদের মাঠমুখী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিসিবি।
তবে টুর্নামেন্টটি বিনা মূল্যে উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন না দর্শকরা। নির্ধারিত মূল্যে টিকিট কেটেই মাঠে খেলা দেখতে হবে। ইস্টার্ন গ্যালারির টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা, নর্দার্ন ও সাউদার্ন স্ট্যান্ডের জন্য ২০০ টাকা, ক্লাব হাউসের টিকিট ৫০০ টাকা এবং গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১,০০০ টাকা।










Discussion about this post