লাহোরে শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসার পরও সময় খুব বেশি নেই! কয়েক দিনের মধ্যেই আবার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন বাবর আজম ও নাহিদ রানা। পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনালে পেশোয়ার জালমি-এর জয়ে দুজনই সতীর্থ হিসেবে উদ্যাপন করেছেন, কিন্তু ৮ মে ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজে সেই সম্পর্ক বদলে যাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
পিএসএলের একাদশ আসরের ফাইনালে গতকাল রাতে লাহোরে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে ৫ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় জালমি। ১২৯ রানের লক্ষ্য তারা ২৮ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায়। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় মূলত বোলিংয়ে, যেখানে নাহিদ রানা ও অ্যারন হার্ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একসময় ৭১ রানে ২ উইকেট থাকা কিংসমেন শেষ পর্যন্ত ৪৮ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায়।
নাহিদ রানা ফাইনালে ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন, যার মধ্যে ছিল একটি মেডেন ওভার। পুরো আসরে মাত্র পাঁচ ম্যাচ খেলেই ৯ উইকেট শিকার করেছেন তিনি, কিন্তু পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে তাঁর গতি। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতির বল প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য কতটা কঠিন ছিল, তা ফাইনালের পর হার্ডির মন্তব্যেই স্পষ্ট। তিনি জানান, এত কম সময়ের ব্যবধানে এসে এমন গতিতে বোলিং করা সত্যিই ভয়ংকর ছিল ব্যাটসম্যানদের জন্য।
ফাইনালের নায়ক অবশ্য হার্ডিই। বল হাতে ৪ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে অপরাজিত ৫৬ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন এই অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার। চাপের মুহূর্তে তার সঙ্গে সামাদের ৮৫ রানের জুটি জালমিকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে, যখন দলটি ৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল।
এই শিরোপা পেশোয়ার জালমির ইতিহাসে দ্বিতীয়, এর আগে তারা ২০১৭ সালে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। প্রথমবার পিএসএল খেলতে এসেই শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলেন নাহিদ রানা, যা তার ক্যারিয়ারের জন্য বড় এক মাইলফলক।
তবে সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে নাহিদের গতি বনাম বাবরের ব্যাটিং নিয়ে। হার্ডির ভাষায়, এই লড়াই হবে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন-নাহিদের মুখোমুখি হতে খুব একটা স্বস্তিতে থাকবেন না বাবর।
নাহিদের পারফরম্যান্স শুধু এই টুর্নামেন্টেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই মনে করেন হার্ডি। তার বিশ্বাস, অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত দেখা যাবে এই তরুণ পেসারকে। ইতিমধ্যে পিএসএলের সেরা একাদশে জায়গা পাওয়া এবং ‘সুপার পাওয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার জেতা তাঁর সম্ভাবনারই প্রমাণ।










Discussion about this post