স্কোরবোর্ড বলবে, বাংলাদেশ হেরেছে ৭ রানে। সিরিজের হিসাব বলবে, এক ম্যাচ আগেই ট্রফি নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু চট্টগ্রামের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির গল্পটা শুধু হার-জয়ের সংখ্যায় আটকে রাখার মতো নয়। কারণ ১৯৬ রানের বিশাল লক্ষ্য সামনে নিয়েও শেষ বল পর্যন্ত লড়েছে বাংলাদেশ। একসময় মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার রান পাহাড়ে চাপা পড়ে যাবে স্বাগতিকরা, কিন্তু তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন দল দেখিয়েছে-এই বাংলাদেশ আর আগের মতো সহজে হার মানে না।
আজ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকে থাকা উত্তেজনায় ভরা ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া জয় তুলে নেয়, আর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ নিজেদের করে নেয়।
চট্টগ্রামে দুপুরের ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই অবশ্য স্বাগতিক বোলাররা বুঝিয়ে দেন, অস্ট্রেলিয়ার জন্য দিনটি সহজ হবে না। নতুন বল হাতে বাংলাদেশের আক্রমণ ছিল ধারালো। একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫০ রানের আগেই চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা।
কিন্তু বিপদে দলের হাল ধরেন ম্যাট রেনশো। একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ধৈর্য ও আক্রমণের দুর্দান্ত সমন্বয়ে এগিয়ে নিতে থাকেন ইনিংস। বাংলাদেশের বোলারদের পরিকল্পনা ভেঙে দিয়ে মাত্র ২৯ বলে তুলে নেন ফিফটি। এরপর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি।
রেনশোর সঙ্গে টিম ডেভিডের জুটি ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। দুজনের ৯৭ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে আবার লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনে। ডেভিড ২৬ বলে করেন ৪৫ রান, আর রেনশো শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৮৯ রানে। ৫২ বলের এই ইনিংসে ছিল চারটি চার ও পাঁচটি ছক্কা।
শেষ দিকে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাসুম আহমেদ ছিলেন সবচেয়ে কার্যকর। তার নিয়ন্ত্রিত স্পিনে অস্ট্রেলিয়া কিছুটা চাপে ছিল। চার ওভারে ২৭ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে রান আটকাতে না পারায় বড় সংগ্রহ পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরু থেকেই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে থাকে। তানজিদ হাসানের ৩০, সাইফ হাসানের ৪২ এবং পারভেজ হোসেনের ৩৬ রানের ইনিংসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের দিকে আসে।
১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০৩ রান। হাতে ছিল আট উইকেট। সেই অবস্থান থেকে জয় অসম্ভব ছিল না। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা শেষ দিকে চাপ তৈরি করে। প্রয়োজনীয় রানরেট বাড়তে থাকে, আর বাংলাদেশের সামনে কঠিন হয়ে ওঠে সমীকরণ।
শেষ দুই ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৩৪ রান। নাথান এলিসের ১৯তম ওভারে আসে ১১ রান। শেষ ওভারে ২৩ রানের কঠিন লক্ষ্য সামনে রেখেও হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ।
তাওহীদ হৃদয় তখন হয়ে ওঠেন শেষ আশার নাম। একের পর এক বড় শট খেলে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন তিনি। শেষ দুই বলে প্রয়োজন ছিল ১২ রান। একটি বাউন্ডারিতে ব্যবধান কমলেও শেষ বলে দরকার পড়ে ৮ রান।
জয়ের জন্য শেষ বলেও ছক্কার চেষ্টা করেন হৃদয়। কিন্তু সীমানার কাছে ক্যাচ হয়ে থেমে যায় বাংলাদেশের শেষ সম্ভাবনা। ২২ বলে দুই ছক্কা ও তিন চারে ৩৫ রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি।









Discussion about this post