বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে চলমান অসন্তোষ বুধবার ফের প্রকাশ্যে এসেছে। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দুপুরে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে একটি দল।
প্রায় ৫০-৬০ জন অংশগ্রহণকারী স্লোগান, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পদত্যাগ করার পর এটি শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দফার বিক্ষোভ। তার দায়িত্ব ছাড়ার পরদিনই প্রথম দফায় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই কর্মসূচিতেও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদের নাম উল্লেখ করে নানা স্লোগান দেওয়া হয়। বুধবারের মিছিলেও আগের আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেককেই দেখা যায়।
নিজেদের ‘ক্রিকেটপ্রেমী জনগণ’ পরিচয় দেওয়া বিক্ষোভকারীরা জানান, বর্তমান বোর্ড পরিচালনা পর্ষদ অবিলম্বে বাতিল করে নতুন ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে বিসিবি পরিচালনা করতে হবে। আগের কর্মসূচির মতো এবারও বিসিবির ভেতরে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অপসারণের দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভকারীদের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল-‘বিসিবিতে জুয়ারিদের জায়গা নেই’, ‘ঋণখেলাপি ও দাগি আসামিদের বিসিবিতে চাই না’, ‘যৌন নিপীড়কদের ঠাঁই হবে না’, ‘সিন্ডিকেট ভেঙে দাও’। পাশাপাশি কিছু স্লোগান ও প্ল্যাকার্ডে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কঠোর ভাষার ব্যবহারও লক্ষ্য করা যায়।
মিছিলটি বিসিবির মূল ফটকের সামনে পৌঁছালে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যরা দ্রুত মূল ফটক বন্ধ করে অবস্থান নেন। তবে বিক্ষোভকারীরা বিসিবি প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করেননি। কিছু সময় অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে তারা মিছিল নিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা গণমাধ্যমের সামনে বিসিবি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার প্রভাব ও স্বেচ্ছাচারী ভূমিকার কারণে বিসিবির নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
একজন বিক্ষোভকারী বলেন, বিসিবির নির্বাচন কোনোভাবেই স্বচ্ছ হয়নি এবং এটি একটি সিন্ডিকেটনির্ভর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিন্ডিকেট ভাঙা না গেলে দেশের ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, তাদের কর্মসূচির বিপরীতে রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে পাল্টা মিছিল করা হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বহু প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। তাদের মতে, বিসিবির মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে প্রশ্নবিদ্ধ ও অনিয়মপূর্ণ নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
এর আগে গত শনিবার ‘ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের সকল খেলোয়াড়বৃন্দ’ ব্যানারে বিসিবির সামনে আরেকটি বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ক্রিকেটাররা বিসিবির অধীন ঘরোয়া সব ধরনের লিগ দ্রুত চালুর দাবিতে স্মারকলিপি দেন।










Discussion about this post