মালের আকাশে তখন সন্ধ্যার আলো ধীরে ধীরে মিশে যাচ্ছিল রাতের অন্ধকারে। কিন্তু জাতীয় স্টেডিয়ামের ভেতরে আলো নিভেনি এক মুহূর্তের জন্যও-সেখানে জ্বলছিল উত্তেজনা, চাপ আর স্বপ্নের আগুন। সেই আগুনেই নিজেদের আবারও প্রমাণ করল বাংলাদেশের তরুণরা।
দ্বিতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ জিতল বাংলাদেশ।
মালদ্বীপের মালে জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ ফাইনালে ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখল বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।
ম্যাচটা ছিল যেন দাবার চালের মতো হিসেবি, আবার কখনো ঝড়ের মতো হঠাৎ তীব্র। প্রথমার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ আর আক্রমণে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। প্রতিটি পাসে ছিল আত্মবিশ্বাস, প্রতিটি আক্রমণে ছিল সম্ভাবনার ঝিলিক। কিন্তু গোল-সেটা যেন দূরের কোনো মরীচিকা।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল দৃশ্যপট। ভারত তখন আক্রমণে আরও ক্ষুধার্ত, আরও মরিয়া। বাংলাদেশের ডিফেন্সের ওপর চাপ বাড়তে থাকল। গোলরক্ষক মাহিন কয়েকবার পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে বিপদ সামলালেন, যদিও কিছু মুহূর্তে তৈরি হয়েছিল শঙ্কা। তবুও ভাগ্য আর দৃঢ়তা-দুটোই ছিল বাংলাদেশের পাশে।
সময়ের কাঁটা যখন শেষ প্রান্তে, তখনও স্কোরবোর্ডে শূন্য। কিন্তু ম্যাচের গল্প তখনও শেষ হয়নি-বরং শুরু হচ্ছিল আসল নাটক।
টাইব্রেকারে দাঁড়িয়ে যেন প্রত্যেকটি শট ছিল একটি করে গল্প। সাফল্য, ব্যর্থতা, চাপ—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত মানসিক যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধের মাঝেই এলো সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত।
স্যামুয়েল রাকসাম যখন বলের সামনে দাঁড়ালেন, তখন হঠাৎই খেলা থেমে গেল। ভারতের গোলরক্ষক সুরজ সিং মাটিতে পড়ে গেলেন যন্ত্রণায়। সময় থমকে গেল, ছন্দ ভেঙে গেল। সেই বিরতির ভার যেন এসে পড়ল স্যামুয়েলের কাঁধে। শট নিলেন, কিন্তু বল গিয়ে আঘাত করল ক্রসবারে, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল বাংলাদেশের।
তবুও ভেঙে পড়েনি দল। কারণ তারা জানত, গল্পটা এখনও লেখা শেষ হয়নি।
শেষ দৃশ্যে ভারতের ওমং দুদুর শট বাইরে চলে যেতেই বদলে গেল সবকিছু। মুহূর্তেই চাপ সরে গিয়ে সুযোগ এসে দাঁড়াল বাংলাদেশের সামনে। আর সেই সুযোগকে সোনায় পরিণত করলেন রোনান সুলিভান।
তার শট জালে জড়াতেই যেন বিস্ফোরিত হলো এক জাতির আনন্দ। সতীর্থরা ছুটে এলেন, গ্যালারিতে উল্লাসে ভেসে গেল প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সেই মুহূর্তে আর কোনো সন্দেহ ছিল না-এই মুকুট, এই গৌরব, এই ইতিহাস-সবই বাংলাদেশের।









Discussion about this post