বাংলাদেশ ক্রিকেটে নেতৃত্বের নতুন গল্প লেখা হলো রোববার। বহু বছর জাতীয় দলের হয়ে ব্যাট হাতে লড়াই করা তামিম ইকবাল এবার দায়িত্ব নিলেন প্রশাসনের ড্রেসিংরুমে। মিরপুরের শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনে বিপুল সমর্থন নিয়ে পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর বিসিবির নতুন সভাপতি হয়েছেন দেশের ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় এই মুখ।
সভাপতি পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা খুব বেশি সময় নেয়নি। পরিচালকদের সমর্থন নিয়ে সহজেই বিসিবির ১৮তম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। এর আগে অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন প্রায় দুই মাস। এবার নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হলো আনুষ্ঠানিকভাবে। সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন ফাহিম সিনহা।
তবে সভাপতি হওয়ার পথটা তামিমের জন্য শুধু আনুষ্ঠানিক ছিল না, ছিল শক্ত অবস্থানেরও প্রমাণ। ক্লাব ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট। মোট ৭৬ ভোটের মধ্যে ৭৪টি ভোট কাস্ট হয়, আর তার প্রায় সবটাই গেছে তাঁর ঝুলিতে। এই ফল শুধু জনপ্রিয়তার নয়, ক্রিকেট সংগঠকদের বড় অংশের আস্থার প্রতিফলনও।
ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন আরও ১১ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা. মাহবুব শামীম এবং সাকেফ আহমেদ সালাম। ১৬ জন প্রার্থীর লড়াইয়ে বাদ পড়েছেন বোরহানুল পাপ্পু, আমজাদ হোসেন, ফায়াজুর রহমান মিতু এবং মেজর ইমরোজ আহমেদ।
নির্বাচনের ফলাফলে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে-তামিমের সঙ্গে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন আরও কয়েকজন সংগঠক। সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ ও ইসরাফিল খসরু পেয়েছেন ৭২ ভোট করে। মাসুদুজ্জামানের ঝুলিতে গেছে ৭০ ভোট, আর ইয়াসির ফয়সাল পেয়েছেন ৬৮ ভোট। ফাহিম সিনহা ও শাহনিয়ান তানিম পেয়েছেন ৬৬টি করে ভোট।
দিনভর ভোটগ্রহণকে ঘিরে মিরপুরে ছিল উৎসবের আমেজ। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোট। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে গণনা। ক্রিকেট প্রশাসনের পরিচিত মুখ, ক্লাব প্রতিনিধি এবং সাবেক ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে জমে ওঠে বিসিবি কার্যালয়। নির্বাচনের পুরো আয়োজনেই ছিল বাড়তি আগ্রহ, কারণ অনেকের চোখ ছিল তামিমের দিকেই।









Discussion about this post